স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১৫ জুলাই : ভরনপোষণ দেওয়ার দাবিতে স্বামীর বাড়িতে প্রথমা স্ত্রী। বাড়িতে প্রথমা স্ত্রী আসতেই ঘরে তালা দিয়ে বের হয়ে যায় স্বামী, শ্বাশুরী ও দ্বিতীয় স্ত্রী। পাঁচ দিন ধরে অভুক্ত অবস্থায় অষ্টম শ্রেণীর পাঠরত ছেলেকে নিয়ে ঘরের বাইরে দিন কাটাচ্ছেন অসহায় গৃহবধূ প্রতিমা দাস। ঘটনা বিশালগড় বাইদ্যাদীঘি এলাকায়। প্রথমা স্ত্রী প্রতিমা দাসের অভিযোগ, ২০০৮ সালে তার বিয়ে হয়। ২০১০ সালে রঘুনাথপুর এলাকায় নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি। তারপর মামলা হয়। শ্বশুর বাড়ির লোকেরা ভরনপোষণ বাবদ নগদ ৮ লক্ষ টাকা সহ নানান প্রলোভন দেখিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য স্ত্রী প্রতিমা দাসকে বলে।
সেই মোতাবেক মামলা তুলে নেয় প্রতিমা। কিন্তু এরপর আর টাকা দেওয়ার নাম নেই স্বামী রাজীবের। এই অবস্থায় অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত পুত্রকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রতিমা। শেষ পর্যন্ত ভরন পোষনের টাকা মিটিয়ে দেওয়ার দাবিতে স্বামীর বাড়িতে গেলে দরজায় তালা দিয়ে কেটে পড়ে স্বামী রাজীব, শ্বাশুরী গৌরি দাস ও দ্বিতীয় স্ত্রী। এই অবস্থায় কি করবেন ভেবে উঠতে পারচ্ছেন না প্রথমা স্ত্রী প্রতিমা দাস। খোলা আকাশের নিচে থাকা গৃহবধূ ও তার ছেলের চোখ দিয়ে অনবরত গড়িয়ে পড়ছে জল। তিনি আরো জানান ছেলের পড়াশোনার খরচ শিশু সুরক্ষা কমিশনের দেওয়া তথ্য দিয়ে বহন করে চলেছে। কিন্তু দুবেলা খাবার খেতে এক টাকাও নেই তাদের কাছে। ক্যামেরার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অসহায় গৃহবধূর। দীর্ঘদিন ধরে আত্মীয় পরিজনের বাড়ি ঘরে থেকে কোনোভাবে দিন কাটাতে পারলেও এখন আর কোথাও ঠাঁই হচ্ছে না অসহায় প্রতিমার। কান্না করে আর্থিক সহযোগিতার দাবি করলেন তিনি। এদিকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কোথায় শিশু সুরক্ষা কমিশন ? কোথায় মহিলা কমিশন ? এ ধরনের অবিচার আর কতটা ঘটলে কুম্ভ নিদ্রা ভাঙ্গবে তাদের ?

