স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৬ জুলাই : স্বাস্থ্য পরিষেবার করুন চিত্র কৈলাসহর রাজীব গান্ধী মেমোরিয়াল মহকুমা হাসপাতালে। হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে পরিষেবা নিতে এসে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। আর দায়িত্বে থাকা কর্মীরা ব্যস্ত বাড়তি কামাইয়ে। বৃহস্পতিবার সকাল এগারোটা পর্যন্ত হাসপাতালের ল্যাবরেটরি বন্ধ থাকায় প্রত্যন্ত এলাকা থেকে রোগীরা এসে ফিরে যায় বাড়িতে, আবার কেউ বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে।
স্বাস্থ্য প্রশাসনের এই করুন দশা দেখে রোগী ও রোগীর প্রয়োজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রায়ই রাজীব গান্ধী মেমোরিয়াল মহকুমা হাসপাতালের ল্যাবরেটরি বন্ধ থাকে বলে অভিযোগ। সূত্রে খবর হাসপাতালের ল্যাবরেটরি দায়িত্বে থাকা তপন বাবু নাকি সরকারি কোয়ার্টারে কোয়ার্টারে নিজে ল্যাবরেটরি বসিয়ে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষা করেন। এবং আরো দুজন সরকারি ভাবে নিয়োজিত থাকলেও তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে আসে না। আর এভাবেই চলছে দীর্ঘদিন। যার ফলে এভাবে বন্ধ করে থাকে তাই হাসপাতালের ল্যাবরেটরি। এ বিষয়ে ল্যাবরেটরিতে আসা এক রোগীর আত্মীয় জানান, সকাল আটটা থেকে ল্যাবরেটরি খোলা থাকার কথা, এগারোটা বেজে গেলেও সরকারি হাসপাতালের ল্যাবরেটরি বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের ল্যাবরেটরি বন্ধ থাকার বিষয়ে হাসপাতালের ইনচার্জ ড: নিকেন্দ্র দেববর্মার চেম্বারে জানতে গেলে দেখা যায় তিনিও অনুপস্থিত। দুপুর বারোটা পর্যন্ত এস ডি এম ও নিকেন্দ্র দেববর্মা হাসপাতালে আসেন নি।
সুতরাং সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা বহু চেষ্টা করেও জানতে পারিনি কেন দুপুর বারোটা পর্যন্ত ল্যাবরেটরি বন্ধ এবং এস ডি এম ও নিকেন্দ্র দেববর্মা পর্যন্ত নিজ চেম্বারে আসেনি। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ রীতিমতো খবরের শীর্ষস্থান দখল করে আসছে। রাজ্যের মন্ত্রী, বিধায়করা শুধুমাত্র সকাল থেকে শুধু সাংগঠনিক কাজ এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ফটো সেশনে ব্যস্ত থাকছেন। হাসপাতাল গুলি পরিদর্শনের কোন তৎপরতা নেই তাদের। রোগী এবং রোগীর পরিজনদের যে কতটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সেটা লক্ষ্য করা যায় হাসপাতাল গুলিতে। উপর মহল থেকে শুরু করে নিচু মহল পর্যন্ত কতিপয় কর্মী এভাবেই ফাকি ঝুঁকি দিয়ে দায়িত্ব খালাস করে ফেলছে। আর মাস ঘুরতেই মিলছে জনগণের কর দিয়ে মোটা বেতন, আবার বাড়িঘরে তৈরি করে রেখেছেন নিজেদের বাড়তি কামাই। কিন্তু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার কেউ নেই !

