স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৯ জুন : গ্রামীন এলাকায় রেগা কাজ নেই, অনাহারে ভুগছে মানুষ। নেই পানীয় জল এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা সহ রাস্তাঘাট। ভেঙে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যপরিষেবা। শুক্রবার সন্ধ্যায় সিপিআইএম রাজ্য দপ্তরের সাংবাদিক সম্মেলন করে এই অভিযোগ করলেন সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সদস্য রাধা চরণ দেববর্মা।
তিনি বলেন, গত ৭ এবং ৮ জুন সি পি আই এম -এর পুলেটব্যরোর সদস্য মানিক সরকার, প্রাক্তন বিধায়কগণ রতন ভৌমিক, সুধন দাস, রাজ্য কমিটির সদস্য ললিত ত্রিপুরা, গন্ডাছড়া সিপিআইএম কমিটির সম্পাদক ধনঞ্জয় ত্রিপুরা এবং ধোলাই জেলার সি পি আই এম কমিটির জেলা সম্পাদক পঙ্কজ চক্রবর্তীর ধলাই জেলার বিভিন্ন জায়গায় যান। মানুষের সাথে মত বিনিময় করেন। এর মধ্যে প্রথম দিন ছামনু থালছড়ায় তিন থেকে চারটি ভিলিজ কমিটি লোকজনদের সাথে আর্থিক অবস্থা এবং রেশনিং ব্যবস্থা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। মানুষ স্পষ্ট জানিয়েছে অত্যন্ত দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে রয়েছে তারা। এর পেছনে মূলত কারণ হলো বিগত বছর অক্টোবরের পর মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের রেগা কাজ হয়েছে। এবং তাদের পুরো টাকা এখনো দেওয়া হয়নি। ২২৫ টাকা মজুরির মধ্যে মাত্র ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা তারা পাচ্ছে। এবং দেখা গেছে এই অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার কারণ হলো বিজেপি এবং মথার যারা মাতব্বর রয়েছেন তারা কাজ না করে ভাগ বসাচ্ছে। ফলে তাদের এত কম টাকা মজুরি মিলছে। সেখানে পূর্ত দপ্তর, বিদ্যুৎ নিগম সহ কোন দপ্তরের কাজ হচ্ছে না।
এবং তাদের আর কোন অর্থ উপার্জনের রাস্তা নেই। রেশনিং ব্যবস্থাও অনেকটাই দুর্বল। মাথাপিছু মাত্র ৫ কেজি করে চাল মিলছে। মানুষের এক অসহনীয় অবস্থা সেখানে লক্ষ্য করা গেছে। তাই মানুষকে বলা হয়েছে কে কোন দলের সমর্থক সেটা অন্য বিষয়। সকলে যাতে তাদের অধিকার পাওয়ার জন্য সম্মেলিতভাবে এগিয়ে এসে আওয়াজ তুলেন। ৮ জুন গঙ্গানগর ব্লক এলাকার মালদা পাড়াতে যান। সেখানে ৩০৩ পরিবারের বসবাস। কিন্তু সেখানেও একই অবস্থা। কাজের জন্য অনাহার লক্ষ্য করা গেছে। কারণ রেগা কাজ এবং মজুরি মিলছে না। মানুষকে অভাবে জীবন ধারণ করতে হচ্ছে। এমনকি রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। ফলে মানুষ বলছে সরকার তাদের সাথে তামাশা করছে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো যেখানে খাবার নেই সেখানে রেশনের মাধ্যমে মশলা দিয়ে উপহাস করা হচ্ছে। তারপর প্রতিনিধি দলটি ডুম্বুর কালাঝারি এলাকায় যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে লক্ষ্য করা গেছে ডুম্বুর জলাশয়ে মাছ না ফেলার কারণে মানুষের আয় উপার্জন নেই। এবং মানুষকে বলা হয়েছে এর বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকার এবং এডিসি প্রশাসনের নজরে আনা হবে। নাহলে পরিস্থিতি আগামী দিনে ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করলেন রাধা চরণ দেববর্মা। তিনি আরো বলেন লক্ষ্য করা গেছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে প্রথম কিস্তির টাকা মিললে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেতে কুড়ি হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাক্তন বিধায়ক সুধন দাস জানান, সরজমিনে না গেলে মানুষ যে এত কঠিন অবস্থা মধ্যে রয়েছে তা জানা যেত না।
তিনি আরো অভিযোগ তুলে বলেন সেখানে শিক্ষা পরিকাঠামো পুরোপুরিভাবে ভেঙে পড়েছে। যেমন দেখা গেছে দলপতি এসবি স্কুলে একজন শিক্ষক। একই অবস্থা মানিকপুর এসবি স্কুলের। ফলে ব্যাপকভাবে স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যেমন গন্ডাছড়ায় ২৪ টি জেবি এবং এস বি স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এ সরকার শিক্ষাকে সংকোচন করার জন্য যে নীতি গ্রহণ করেছে তারই প্রতিফলন বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন এই ২৪ টি স্কুল যদি অন্তত চালু থাকতো তাহলে ছাত্র-ছাত্রীরা মিড ডে মিল খাবার পেয়ে যেত। সুতারাং লেখাপড়া যেমন বন্ধ হয়ে গেছে তেমনি খাবারে সুযোগটা পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান। একই অবস্থা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গুলির। এবং মিড ডে মিল খাবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে মূলত কারণ হলো পানীয় জল নেই। নেই বিদ্যুৎ পরিষেবা। এভাবেই জামিন এলাকার লেখাপড়া স্তব্ধ হয়ে গেছে। উদ্বেগ প্রকাশ করেন সামাজিক ভাতা নিয়ে। তিনি বলেন, বহু মানুষের সামাজিক ভাতা কেটে দেওয়া হয়েছে। আর যারা সামাজিক ভাতা পাচ্ছে তারা কয়েক মাস পর পর এক মাসে ভাতা পাচ্ছে। এই এলাকাগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চিকিৎসা পরিষেবার কোন সুযোগ নেই। কারণ অনিয়মিত ডাক্তার নিয়োগ করা হচ্ছে সেই সব প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে। আর ডাক্তার দেখানোর পর যদি ওষুধ লিখে দেওয়া হয় সেই ওষুধ হাসপাতাল থেকে মিলছে না। এরকম দুরবস্থার মধ্যে মানুষ জীবনযাপন করছে বলে জানান শ্রী দাস।

