Thursday, February 5, 2026
বাড়িজাতীয়পার্শ্ববৈঠকে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে হাতও মেলালেন না রাজনাথ

পার্শ্ববৈঠকে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে হাতও মেলালেন না রাজনাথ

স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক,,২৮ এপ্রিল: ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এ মুহূর্তে কতটা শীতল, তার আরও এক প্রমাণ দেখা গেল ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শাংফুর বৈঠকে। ওই বৈঠকে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ প্রতিনিধিদলের কারও সঙ্গে রাজনাথ সিং করমর্দন করেননি।ভারতের নয়াদিল্লিতে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। এসসিওর অন্য সদস্য দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রাজনাথ সিং যথেষ্ট সৌজন্য দেখিয়েছেন। তবে পার্শ্ববৈঠকে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শাংফুর সঙ্গে করমর্দন করেননি তিনি।ওই বৈঠকে রাজনাথ সিং স্পষ্ট বলেছেন, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারবে না। চলমান সম্পর্কেরও উন্নতি হবে না।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ওই বৈঠকে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা নতুনভাবে শুরু করার এক প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। ভারত তা খারিজ করে জানায়, ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ওই প্রস্তাব বিবেচিত হতে পারে, তার আগে নয়।’বৈঠকের পর গতকাল রাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে রাজনাথ সিং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এলএসি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির একমাত্র শর্ত। সীমান্তে শান্তি ও সুস্থিতি বজায় থাকলেই সম্পর্কের উন্নতি হওয়া সম্ভবপর। ২০২০ সালের জুন মাসে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকে ভারত ধারাবাহিকভাবে এ কথা চীনকে বলে আসছে।

লি শাংফু চীনের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ওই সংঘর্ষের পর এই প্রথম চীনের কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারতে এলেন। দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মধ্যেও এটাই ছিল প্রথম বৈঠক। গালওয়ানের পর দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে মোট ১৮টি বৈঠক হয়েছে। শেষ বৈঠক হয় গত রোববার, পূর্ব লাদাখের চুশুল-মলডো সীমান্তে। সেই আলোচনাতেও এলএসিতে শান্তি রক্ষায় দুই দেশ সম্মত হয়েছে। কিন্তু ১৮টি বৈঠকের পরও এলএসির পরিস্থিতি সংঘর্ষ পূর্ববর্তী স্থিতাবস্থায় পৌঁছায়নি; বরং দুই দেশ সেনা উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে। এ মুহূর্তে এলএসিতে দুই দেশেরই ৫০ হাজার করে ফৌজ মোতায়েন রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে ভারী সমরাস্ত্র। চীনকে ভারত জানিয়েছে, এই সেনা উপস্থিতি পর্যায়ক্রমে কমিয়ে পরিস্থিতি আগের মতো না করা গেলে সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারবে না।

চীন এখন পর্যন্ত পূর্ব লাদাখের ডেপসাং উপত্যকা ও ডেমচকের চারডিং নিংলুং নালা এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি নয়। এ ছাড়া অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তেও চীন নতুনভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে বলে ভারতের অভিযোগ। চীন অনেক দিন থেকেই অরুণাচল প্রদেশকে দক্ষিণ তিব্বতের অঙ্গ বলে দাবি জানিয়ে আসছে। ভারতের বক্তব্য, অরুণাচল প্রদেশ তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ওই রাজ্যের তাওয়াং অঞ্চলের ইয়াংসিতে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে গত ৯ ডিসেম্বর ছোটখাটো সংঘর্ষও বেঁধেছিল। সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের আরও ১১ এলাকার নতুন নামকরণ করেছে চীন। তারা ওই রাজ্যে জি-২০ সম্মেলনেরও প্রবল আপত্তি জানিয়েছিল। সেই বৈঠকে চীন অংশ নেয়নি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য