স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৫ জুলাই : বুধবার বিলোনিয়া মহকুমা চোত্তাখলায় পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে বাদল শীলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহিদান দিবস কর্মসূচি করতে চেয়েছিল বামেরা। কিন্তু কর্মসূচি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মাঝ রাস্তায় কালো পতাকা নিয়ে কর্মসূচি বানচাল করতে দাঁড়িয়ে থাকে দুর্বৃত্তরা। মিছিল এগিয়ে আসতে বিরোধী দলনেতাকে কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ দেখায় জড়ো হওয়া দুর্বৃত্তরা। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে বামেদের মিছিল মাঝরাস্তায় রুখে দেয়। তখন পরিস্থিতির উত্তপ্ত হয়ে উঠে। উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, প্রাক্তন বিধায়ক সুধন দাস সহ অন্যান্যরা।
বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এদিন কর্মসূচি বান চালের জন্য তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন উপস্থিত পিআর বাড়ী থানার ওসি, বিলোনিয়া থানার ওসি, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং এসপির সঙ্গে। কিন্তু পুলিশ পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মিছিল এগোতে দেয়নি। প্রাক্তন বিধায়ক সুধন দাস পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন যদি দুর্বৃত্তদের রাস্তা থেকে আপনারা না সরাতে পারেন তাহলে আপনারা সরে যান, আমাদের সামর্থ্য আছে তাদের রাস্তা থেকে সরানোর। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুইপক্ষকে এগোতে দেয়নি। তারপর বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, এই কর্মসূচির জন্য রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশকের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে কর্মসূচি পালন করতে এসেছেন। কারণ প্রতিবছর এলাকার শাসকদল আশ্রিত গুন্ডাবাহিনী বাধা দেয়। ব্যতিক্রম হবে না সেটা আগে থেকেই জানা ছিল।
জেলা পুলিশ সুপার ডিজিকে জানিয়েছেন তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছেন। কিন্তু, শাসক দল সকাল থেকেই গুন্ডাদের এলাকায় জড়ো করে রেখেছিল। আর বামেদের পক্ষ থেকে শহীদান কর্মসূচি শুরু হতেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় তারা। বর্তমান সরকার এই গুন্ডাদের নিয়ে সংসার করছে। এর দ্বারা প্রমাণ করে ত্রিপুরা রাজ্যে গণতন্ত্র নেই, গুন্ডাতন্ত্র চলছে। কারণ বামেদের কর্মসূচি আছে জানতে পেরে গুন্ডাদের আগে থেকেই শুরু করে রেখেছেন। বিশেষ করে আজকের ঘটনা প্রমাণ করে ত্রিপুরায় রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা নেই, গুন্ডার শাসন চলছে। ত্রিপুরা রাজ্যের উর্দিধারী পুলিশ গুন্ডাদের আগলে রাখছে। এভাবে রাজ্যের গণতন্ত্রের হত্যা হচ্ছে। এবং এভাবেই বাদল শীলকে হত্যা করেছিল গুন্ডারা। আগামী দিন রাজ্য থেকে গুন্ডাতন্ত্র সরিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে শপথ গ্রহণ করছেন বলে জানান।

