স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৫ জুলাই : বুধবার ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির মাধ্যমে ভার্চুয়ালভাবে রাজ্যের উত্তর ত্রিপুরা জেলার মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। একই সঙ্গে ‘যোদ্ধা’ ওয়েব সাইটের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন আগরতলায় বসে রাজ্যের গ্রাম পাহাড়ে মানুষের সমস্যা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায় না।
তাই তিনি ধলাই জেলার পর উত্তর ত্রিপুরা জেলার জন্য ভার্চুয়াল ভাবে মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু চালু করেছেন। আজকে ৭০ তম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনসাধারণের জন্য কাজ করার অগ্রাধিকার দিয়ে চলেছে সরকার। আজকে সমীপেষুতে লক্ষ্য করা গেছে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সম্পর্কে অবগত নয় কাঞ্চনপুরের রিয়াং শিবিরের জনগণ। তাদের মধ্যে সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে অবগত করা হয়। বিভিন্ন সময় দেখা যায় দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আগরতলায় মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুতে আসেন। অনেক আবার আগরতলায় আসতেও পারেন না। যার কারণে এবার জেলা ভিত্তিক মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আজকে উত্তর ত্রিপুরা জেলা শাসক কার্যালয়ে এসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিজেদের বিভিন্ন চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় সহ বিভিন্ন বিষয়ে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন দুর্গম এলাকার মানুষ। তাদের সমস্যা গুলি আগামী দিন কিভাবে সমাধান করা যায় সে বিষয়ে জেলাশাসক সহ অন্যান্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমস্যার সমাধান হয়েছে কিনা সেই রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে আধিকারিকদের। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে সরকার। এর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাসপাতালে। জিবি হাসপাতালে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার পর রিপোর্ট যাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রোগীকে পাঠানো হয় সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন পুলিশ এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীদের কাজের কোন নির্ধারিত সময় নেই। তাদের ২৪×৭ দায়িত্ব পালন করতে হয়। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বলেন রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল গুলির মধ্যে পরিষেবার মান এত উন্নত করার পরেও কেন মানুষ বেসরকারি পরিষেবা নিতে যাবে? তাই মানসিক চিন্তাধারার পরিবর্তন আনতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন আজকে উত্তর ত্রিপুরা জেলা শাসকের পক্ষ থেকে ‘যুদ্ধা’ নামে একটি পোর্টালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন গোপন খবর দেওয়া যাবে। কিন্তু কারোর নাম প্রকাশ হবে না। গোপনীয়তা অবলম্বন করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন এই পোর্টাল যদি সফল হয় তাহলে রাজ্যের প্রত্যেক জেলায় এমন পোর্টাল চালু করা হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক।

