স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১ জুলাই :বুধবার মহিলা কমিশনে প্রবেশ করে মহিলা কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখায়। একটা সময়ের পর উত্তেজিত কর্মী সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের তুমুল ধস্তাধস্তি হয়। মহিলা কংগ্রেসের অভিযোগ, একের পর এক ঘটনার পরও মহিলা কমিশনের কোনও ভূমিকা নেই।প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী সর্বাণী ঘোষ জানান, রাজ্যের শিশুকন্যা থেকে শুরু করে ৬০ থেকে ৬৫ বছর বয়সি মহিলারা ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং খুন হচ্ছেন। কিন্তু রাজ্যের মানুষের দুর্ভাগ্য হলো ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজেপি-র মুখপাত্র হয়ে কাজ করছে।
শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের মহিলা কর্মী মনিশা দাস মৃত্যুকান্ডের ঘটনার তদন্ত করার আগেই আত্মহত্যা বলে দাবী করেছে ত্রিপুরা মহিলা কমিশন। তিনি আরো বলেন, মনীষা মৃত্যু কান্ডের ঘটনা নিয়ে প্রদেশ মহিলা কংগ্রেস বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করলেও রাজ্য সরকার এখন পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় তদন্ত দেয়নি। তিনি আরো বলেন রাজ্যে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসলেও মহিলা কমিশনের কোন ভূমিকা নেই। রাজ্যের মহিলারা যদি নিরাপত্তা না পায় তাহলে এই মহিলা কমিশন রেখে লাভ কি বলে প্রশ্ন তুলেন তিনি।
আরো বলেন রাজ্যের মহিলারা যদি মহিলা কমিশন রাজ্যে থাকার পরেও উপকৃত না হয় তাহলে এই মহিলা কমিশনকে মানা হবে না। আনন্দনগর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় এক ছাত্রীকে দীর্ঘ ছয় ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতন করার ঘটনায় অভিযুক্ত বিজেপি নেত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে কোন আওয়াজ তুলে নি মহিলা কমিশন। অথচ মহিলা কমিশন স্থাপন করা হয়েছে মহিলাদের সুরক্ষার জন্য। এটা নিরপেক্ষ একটা কমিশন। এই কমিশন থাকার পরে যদি কোনরকম সাহায্য না পায় মানুষ তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? গত আট বছরে রাজ্যের মহিলা কমিশন মহিলাদের স্বার্থে কথা বলে নি। আজকে মহিলা কমিশনে প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কর্মীরা জানান দিতে এসেছে মনীষা দাস মৃত্যুকান্ডের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার জন্য যদি মহিলা কমিশন অগ্রসর না হয় তাহলে আগামী দিন গোটা রাজ্যে আন্দোলন সংঘটিত করা হবে। এদিন দীর্ঘক্ষণ আন্দোলন চলার পর পশ্চিম মহিলা থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এদিকে ঘটনার সময় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। অগ্রিম খবর ছিল মহিলা কমিশনের কাছে।

