স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১ জুলাই :সুষ্ঠু বদলির নীতির অভাবে রাজ্যের গ্রাম পাহাড়ের বিদ্যালয় গুলিতে শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। বহু বিদ্যালয়ে বিষয়কেন্দ্রিক শিক্ষক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রবাদী কর্মচারী সংগঠনের আদর্শগামী হয়ে এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবকের ভক্ত হয়ে অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষিকা আগরতলা শহরে বিদ্যালয়গুলির মধ্যে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। যা পূর্বতন সরকারের আমলের নীতি অনুসরণ করে চলেছে বর্তমান সরকার।
ফলে রাজ্যের গ্রাম অঞ্চলের পঠনপাঠন দিন দিন লাটে উঠার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার কারণে প্রতিদিন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে সামিল হচ্ছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। বুধবার লক্ষণঢেপা দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদে সামিল হয়। তাদের বক্তব্য, নলছড় বিধানসভার অন্তর্গত লক্ষণঢেপা দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২২৬ জন। শিক্ষক আছেন মাত্র ৬ জন। তার মধ্যে একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে পাঠরত প্রায় ৬৪ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিষয় শিক্ষকের সঙ্কটের অভিযোগ। তার উপর এখন আরো একজন শিক্ষক বদলি হয়েছেন। এরই প্রতিবাদে বুধবার সকাল আটটা থেকে আন্দোলনে নামে ছাত্রছাত্রীরা। তাদের অভিযোগ বিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি এবং ইতিহাস বিষয় কেন্দ্রীক শিক্ষক নেই।
গত তিন থেকে চার বছর ধরে ছাত্র-ছাত্রীরা বিষয়কেন্দ্রিক শিক্ষকের সমস্যায় ভুগছে। বহুবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে তারা দাবি জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সব সময় এভাবে শিক্ষক সংকটের মধ্যে তাদের পঠন-পাঠন করতে হয়। একজন মাত্র ইংরেজী বিষয়ক কেন্দ্রিক শিক্ষক ছিলেন। তিনি জিটি থেকে পিজিটি হওয়ার পর তাকেও বদলি করে দেওয়া হয়েছে বিদ্যালয় থেকে। তাই তারা দাবি করছে অবিলম্বে ইংরেজি বিষয় কেন্দ্রিক শিক্ষক, বাংলা বিষয়কেন্দ্রিক শিক্ষক এবং ইতিহাস বিষয়কেন্দ্রিক শিক্ষক যাতে অবিলম্বে বিদ্যালয় অন্য কোন জায়গা থেকে হলেও পোস্টিং দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের পঠন পাঠনের ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে বলে দাবি করেন তারা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এদিন ছাত্রছাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করলেও প্রশাসনিক আধিকারিকের দেখা না পেয়ে তারা আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে উঠে। পরবর্তী সময় তারা আগরতলা-সোনামুড়া সড়ক অবরোধ করে। তখন খবর পেয়ে প্রশাসনিক কর্মীরা ঘটনাস্থলে চলে যান। এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। উল্লেখ্য, রাজ্যের বর্তমান সরকার একাধিকবার সুষ্ঠু বদলি নীতি নিয়ে মুখ খুললেও কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন করার জন্য কোনরকম উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

