স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২২ জুন : সরকারি অফিসগুলোর কর্মসংস্কৃতির দিকে নজর নেই সরকারের, মর্জি মাফিক চলছে কাজকর্ম।শনি এবং রবিবার দুদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেও রাজ্যের বড় অংশের কর্মচারীদের অলসতা ভাঙতে পারছে না সরকার। সরকারের এই ব্যর্থতা আবারো ধরা পরল কাঞ্চনমালা বাজার সংলগ্ন কৃষি বীজাগার অফিসে। মনগড়াভাবে দেড় থেকে দুই ঘন্টা পর অফিসে আসেন কর্মচারীরা। জানা যায় সরকারি নির্দেশ অনুসারে সমস্ত সরকারি অফিসে কাজ শুরুর নতুন নিয়ম সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত। সরকারি এই নির্দেশ দেওয়ার পরেও একাংশ সরকারি কর্মচারীরা সেই নিয়মের উপর নজর না দিয়ে মনগড়া অফিসে আসছেন। ঠিক এমনই একটি চিত্র উঠে আসলো পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চন মালা বাজার সংলগ্ন কৃষি বীজাগার অফিসে। এই সরকারি অফিসে দুইজন কর্মী রয়েছেন একজন বি এল ডাব্লিউ, আরেকজন মহিলা গ্রুপ ডি কর্মী।
সোমবার বেলা পৌনে এগারোটা বাজলেও দেখা মেলেনি তাদের কাউকেই। এদিকে এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষক দীর্ঘক্ষণ ধরে এই কৃষি বীজাগার থেকে বীজ এবং সার নেওয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিল, কিন্তু এই অফিসের সরকারি কর্মচারী বাবুদের কাউকেই দেখা মিল ছিল না। অবশেষে এদিন পনে এগারোটার পর বাইক নিয়ে অফিসে আসতে দেখা গেল বিএলডব্লিউকে। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে পড়ে নিজের দোষ ঢাকতে তিনি দাবি করেছেন ফিল্ড ভিজিটে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত থাকা কৃষকরা তখন ঠিকই বুঝে গিয়েছিল আসলে তিনি এতক্ষণ কোথায় ছিলেন। এছাড়াও এই সরকারি অফিসের মহিলা গ্রুপ ডি কর্মীকেও অনেক দেরিতে আসতে দেখা গেছে, সাংবাদিকরা উনাকেও জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানিয়েছেন তিনি নাকি ছুটিতে রয়েছেন।
অন্যদিকে অফিসের বিএল ডাব্লিউকে যখন জিজ্ঞাসা করা হলো তিনি বললেন, গ্রুপ ডি মহিলা কি এখনো আসেননি? গ্রুপ ডি মহিলার যদি ছুটি থাকে তাহলে বি এল ডাব্লিউ কি সেটা জানতেন না! এতেই বুঝা গেল যে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব থেকে নিজেদের দোষ লুকাতে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছে। আসতে দেখা যায়নি। তবে প্রকৃতপক্ষে এখনো সরকারি নতুন নিয়ম নির্দেশিকাকে মান্যতা দিচ্ছে না একাংশ সরকারি কর্মচারীরা তবে সেদিকে এখনো ঠিকঠাকভাবে নজর দিচ্ছেন না দপ্তরের উপর মহলের আধিকারিকরা। তবে মাসের শেষে সরকারি বেতন ভোগী সরকারি কর্মচারীদের এই ধরনের ভূমিকায় সাধারণ মানুষ হতবাক। সাধারণ মানুষের দাবি আদৌ এই ধরনের সরকারি কর্মচারীরা কি শোধরাবে?

