বাড়িরাজ্যউচ্চ আদালতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হলফনামা বাতিল, অবর সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ

উচ্চ আদালতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হলফনামা বাতিল, অবর সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৭ জুন : এবার উচ্চ আদালতে ফের মুখ পুড়ল রাজ্য পুলিশের। উচ্চ আদালতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অবর সচিবের জমা দেওয়া হলফনামা বাতিল হয়ে গেল। আদালতকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই অবর সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিল উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। এই বিষয়ে আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মন জানান, গত ৪ এপ্রিল পূর্ব আগরতলা থানায় সৈকত সাহা নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে তুলে এনে যৌন নির্যাতন চালানো হয়।

এই ঘটনার সাথে যুক্ত ছিল আগরতলা পুর নিগমের টাস্ক ফোর্স রবীন্দ্র নারায়ন ঘোষ, এসপিও জয় দেবনাথ সহ অন্যান্যরা। সৈকত সাহার বাড়িতে নির্মাণ কাজ চলছিল। এই নির্মাণ কাজের জন্য পুর নিগমের টাস্ক ফোর্স রবীন্দ্র নারায়ন ঘোষ সৈকত সাহার নিকট ২ লক্ষ টাকা ঘুষ হিসাবে দাবি করে। কিন্তু সৈকত সাহা এই টাকা না দেওয়ায় তাকে থানায় নিয়ে এসে নির্যাতন চালানো হয়। এই নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের হয়। উচ্চ আদালত পুলিশের তদন্তের উপর অনাস্থা প্রকাশ করে। এবং রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয় বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের জন্য। তদন্তকারী দল বুধবার উচ্চ আদালতে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করে। উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এইদিন রিপোর্ট পেশ করা হয়। সিটের রিপোর্টে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে সৈকতকে থানার অভ্যন্তরে নির্যাতন চালানো হয়েছে। যদিও পূর্ব আগরতলা থানার এক মহিলা অফিসার ঘটনার তদন্ত করে আদালতে জানিয়েছিল থানার অভ্যন্তরে সৈকতের উপর কোন নির্যাতন চালানো হয় নি। অপরদিকে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক আন্ডার সেক্রেটারি উচ্চ আদালতে হলফনামা জমা দিয়ে জানায় পূর্ব থানার অভ্যন্তরে সৈকতের উপর কোন নির্যাতন চালানো হয় নি।

আগরতলা পুর নিগমের সহকারী কমিশনারের অভিযোগের ভিত্তিতে সৈকতকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দেখা গেছে পুর নিগমের সহকারী কমিশনারের অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। এইদিন সিটের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে উচ্চ আদালত স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে আদালতকে বিভ্রান্ত করার জন্য দপ্তরের সংশ্লিষ্ট আন্ডার সেক্রেটারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। সৈকত সাহার গ্রেপ্তার বেআইনি ছিল। তাই পুলিশের এক সাব ইন্সপেক্টরকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিস জারি করা হয়েছিল। অভিযুক্ত সাব ইন্সপেক্টর এইদিন উচ্চ আদালতে উপস্থিত হয়ে তার পক্ষে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় আদালত অবমাননার দায়ে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৩ জুন। সেই দিন পুর নিগমের কমিশনারকে উচ্চ আদালতে হলফ নামা জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতে এইদিনের শুনানির বিষয়ে জানান সৈকতের পক্ষের আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মন। উল্লেখ্য, সৈকতকে থানায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালানোর পর সৈকতের মা আগরতলা পুর নিগমের কমিশনার, পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপারকে লিখিত আকারে ঘটনার বিষয়ে জানান। কিন্তু কেউই কোন গুরুত্ব দেয় নি। পরবর্তী সময় উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের হওয়ার পর সকলে নড়েচড়ে বসে। এবার কড়া নির্দেশ উচ্চ আদালতের।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য