স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৪ জুন : বাপের বাড়ির লোকজনকে ডেকে শ্বশুরবাড়ি থেকে গৃহবধূকে বের করে দিতে চেয়েছিলেন শাশুড়ি। কিন্তু গৃহবধূর মা প্রতিবাদ করায় গৃহবধূর কোমর ভেঙে ফেলল অভিযুক্ত শাশুড়ি। বর্তমানে জিবি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লাগছে ১৯ বছর বয়সী গৃহবধূ। ঘটনা দমদমিয়া এলাকায়। বিয়ের মাত্র আড়াই মাসের মাথায় এই ঘটনা বলে অভিযোগ। গৃহবধূর নাম মধুমিতা সরকার। বয়স মাত্র উনিশ বছর। স্বামীর নাম অনন্ত সরকার। বিয়ের পর থেকে শাশুড়ি গৃহবধূর ওপর একাধিকবার নির্যাতন চালিয়েছে। প্রতিদিন সবার আড়ালে বেধড়ক মারধর করত গৃহবধূকে। সম্প্রতি গৃহবধূর মা-বাবাকে ডেকে নিয়ে মেয়েকে তুলে দিতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু গৃহবধূর মা রাজি না হওয়ায় মায়ের সামনে মেয়েকে বাঁশ দিয়ে এবং কিল ঘুসি দিয়ে বেধড়কভাবে মারধর করে। পরবর্তী সময় গৃহবধূর মা মেয়েকে তার শ্বশুরবাড়িতে রেখে আসার পর নির্যাতনের মাত্রা তিনগুণ বেড়ে যায় পাষন্ড শাশুড়ির বলে অভিযোগ। সন্ধ্যা সময় গৃহবধূর মুখে চেপে ধরে কোমরে আঘাত করে। কোমর ভেঙে যায় ১৯ বছর বয়সি গৃহবধূর। পরবর্তী সময় খবর পেয়ে গৃহবধূর মা-বাবা সহ এলাকাবাসী গিয়ে অভিযুক্ত শ্বশুর বাড়ি লোকজনদের কাছ থেকে মেয়েকে উদ্ধার করে জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসে। বর্তমানে গৃহবধূ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। কথা বলার ক্ষমতা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছে গৃহবধূ। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গৃহবধূর মা এই অভিযোগ করে অভিযুক্ত শ্বাশুড়ি সহ শ্বশুরবাড়ি লোকজনদের কঠোর শাস্তির দাবি করলেন। থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে বলেও জানান গৃহবধূর মা। অভিযুক্ত শ্বশুরবাড়ি লোকজনদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন নির্যাতনের শিকার হওয়া গৃহবধুর মা। এদিকে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযুক্ত শাশুড়ি সহ গোটা পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের কাছে বিচার চাইছে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন নারী সংগঠনকে এগিয়ে আসার দাবি করছে এলাকাবাসী। যাতে নারী নির্যাতনের মত অপরাধমূলক কার্যকলাপ সংঘটিত করা অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি হয়।

