বাড়িরাজ্য৩২ বছর পর বাড়ি ফিরলেন যুবক

৩২ বছর পর বাড়ি ফিরলেন যুবক

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৪ জুন : দীর্ঘ ৩২ বছর পর বাড়ি ফিরলেন যুবক। ছোটবেলায় কপালের কাটা দাগ দেখে ছেলেকে সনাক্ত করলেন বৃদ্ধ বাবা। জানা যায়, পানিসাগর মহকুমার পেকুছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নং ওয়ার্ডে বাংলা সিনেমার মতো এমনটাই ঘটে গেল। দীর্ঘ প্রায় ৩২ বছর পর বাড়ি ফিরলেন ছেলে। ফলে বৃদ্ধ পিতার বিজয় দাসের কাছে সন্তানের জন্মের চেয়েও বড় আনন্দের দিন। ছেলের নাম বিপ্রজিত দাস। প্রথমে ছেলেকে চিনতে না পারলেও ছোটবেলায় কপালে কেটে যাওয়া একটি চিহ্ন দেখেই ছেলেকে চিনতে পারেন বাবা বিজয় দাস। এরপর বাবা-ছেলের চোখের জল আর বাঁধ মানেনি।

বিজয় দাস জানান, ১৯৯৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে কাউকে কিছু না বলেই বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় বিপ্রজিত। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধানকে না পেয়ে পানিসাগর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ছেলেকে ফিরে পেতে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানও করেছেন। একটা সময় নিরুপায় হয়ে একমাত্র পুত্রকে মৃত বলেই ভেবে নিয়েছিলেন। এর মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়ে স্বামী-স্ত্রী একাই বাড়িতে থাকতেন বিজয় দাস। গত চার বছর আগে স্ত্রী তথা বিপ্রজিতের মা শান্তি রানী দাস পরলোক গমন করেন। দীর্ঘ বৎসর পর আজ একমাত্র ছেলেকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা বৃদ্ধ বিজয় দাস। ৩২ বছর পর ফেরার গল্প শোনাল বিপ্রজিত দাস। সে  জানান, মাত্র ১৪ বছর বয়সে রুজি রোজগারের তাগিদে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে আসামে যান। কিছুদিন সেখানে থাকার পর মুম্বাই পাড়ি দেন।

পরে পাঞ্জাবের পাটিয়ালাতে গিয়ে কাজ শিখে সেখানেই স্থায়ী হন। এই দীর্ঘ ৩০-৩২ বছরের মধ্যে পাটিয়ালাতেই কাজ করে রোজগার করেছেন। বর্তমানে তিনি উত্তরাখণ্ডের মুসৌরিতে গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত। বিপ্রজিত আরো বলেন, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে অনেকবার বাড়ি আসার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কিসের একটা অজানা ভয়, সংকোচ মনের মধ্যে কাজ করত। মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারছিলাম না। সম্প্রতি মুসৌরিতে গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ করেই বাড়ির জন্য মন ব্যাকুল হয়ে উঠে। সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনে দিয়ে ধর্মনগরে পৌঁছান। সেখান থেকে পানিসাগর বাজারে এসে স্থানীয় গাড়ি চালকদের কাছে বাবা, দাদু ও কাকার নাম-ঠিকানা বললে, এক গাড়ি চালকই তাকে বাড়ি পৌঁছে দেন। মাকে দেখতে না পেলেও বাবা ও বোনদের সঙ্গে দেখা হয়ে আবেগাপ্লুত বিপ্রজিত। দীর্ঘ বছর ভিনরাজ্যে থাকার কারণে বাংলায় কথা বলতে কিছুটা অসুবিধা হলেও, কিছুদিনের মধ্যেই মাতৃভাষা শিখে নেবেন বলে আশাবাদী তিনি। আপাতত বাবার সাথেই নিজের বাড়িতে স্থায়ীভাবে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বিপ্রজিত। দীর্ঘ ৩২ বছর পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্য সহ গ্রামের শত শত লোক আজ বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। বিপ্রজিত দাস বাড়ি ফিরে আসায় পেকুছড়া গ্রামে আনন্দের বন্যা বইছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য