স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৮ মে :সালেমা থানা এলাকায় প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকার ঘোটালা মামলায় অভিযুক্ত আগরতলা পূর্ব থানার মহিলা কনস্টেবল মেনকা দেববর্মা ও টিএসআর -এর ১৪ নং ব্যাটেলিয়নের জওয়ান অজিত দেববর্মার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে সালেমা থানার পুলিশ। অভিযোগকরী সঞ্জনা দেববর্মা।
সেই সুবাদে পুলিশ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে ধৃত দুইজনকে আজ কমলপুর এসডিজেএম আদালতে সোপর্দ করে। মামলার তদন্তকারী অফিসার সালেমা থানার ওসি দীপক দাস। পুলিশ ধৃতদের সাতদিনের পুলিশ রিমান্ড দাবি করে। বিচারক আইনজীবীদের সওয়াল শেষে ধৃত দুইজনকে সাতদিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠায়। আগামী ২৫ মে ধৃতদের পুনরায় আদালতে তোলা হবে। তবে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে মুখ খুলতে চাইছে না। উল্লেখ্য, সালেমা থানার অন্তর্গত ভাত খাওরি গ্রামের পুলিশ কনস্টবল পীযূষ দেববর্মার ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রাথমিক ধারণা কয়েক কোটি টাকা। ৫০০ টাকা, ২০০ টাকা এবং ১০০ টাকা নোটের বান্ডিল ঘরের মেঝেতে নিয়ে বসে আছেন পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রী নন্দরানী দেববর্মা। তিনি তার বান্ধবীকে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। সেই ভিডিও প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তারপরেই সামাজিক মাধ্যমে ঝড় উঠে কোথা থেকে এই টাকা জোগান, এটা কেউ বুঝে উঠতে পারছে না।
মুখ্যমন্ত্রীর ডাক্তার মানিক সাহা বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের অবগত করেন। সঙ্গে সঙ্গে রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন ডিআইজি উত্তরাঞ্চল রতিরঞ্জন দেবনাথকে। তিনি তদন্ত নেমে যতদূর জানতে পেরেছেন যে এর সঙ্গে জড়িত একটা বড় চক্র। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করতে ডিআইজি ধলাই জেলার পুলিশ সুপার রুসিকেশ দেশাই, এসডিপিও নিরূপণ দত্তকে নিয়ে একটি টিম তৈরি করেন। তারপর গোটা টিম সালেমা থানার পুলিশকে নিয়ে কনস্টবলের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালায়। কনস্টেবলের স্ত্রী নন্দ রানীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তার বান্ধবী সঞ্জনা দেববর্মার নাম উঠে আসে পুলিশের কাছে, সঞ্জনা বর্তমানে স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মী। তারপর পুলিশ-সঞ্জনাকেও থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে একের পর এক তথ্য উঠে আসতেই নন্দরানীর কনস্টেবল স্বামী পীযূষকে জিজ্ঞেসাবাদ এর জন্য নিয়ে যায় পুলিশ।
তারপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে এই চক্রের অন্যতম হল ১৪ নং টি এস আর ব্যাটেলিয়ানের কর্মরত রাইফেলম্যান অজিত দেববর্মা, তার স্ত্রী তথা পূর্ব আগরতলা মহিলা থানার পুলিশ কর্মী মেনকা দেববর্মা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাদেরও সেইদিন রাতের বেলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পশ্চিম আগরতলা থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। কিন্তু তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পুলিশ জানতে পেরেছে টিএসআর কর্মী অজিত দেববর্মার সঙ্গে জড়িত তার সহকর্মী বিজয় দেববর্মা। অর্থাৎ তিনিও টিএসআর -এ কর্মরত। একই সঙ্গে জড়িত প্রতারণার অভিযোগ তোলা সঞ্জনা দেববর্মার স্বামী তথা এক তরুণ চিকিৎসক। এমনটাই সূত্রের খবর। কিন্তু আর্থিকের বিষয় হলো গত দুদিনে পুলিশ এ বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে চাইছে না। এতে করে রহস্যের দানা আরো বাড়ছে।

