স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২ মে : বোরো ধান কাটার উৎসব এবার অধরাই থেকে যেতে পারে রুদ্রসাগর পাড়ের কৃষকদের কাছে। বিগত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে রুদ্রসাগরের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। জল বেড়ে যাওয়ায় সাগর সংলগ্ন বিস্তীর্ণ কৃষি জমির ধান খেত ডুবে গেছে জলের নিচে। কৃষকদের আশঙ্কা, জল নেমে গেলেও ফসল ঘরে তোলা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।
কারণ দীর্ঘ সময় জলমগ্ন থাকার ফলে ধানের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাবে এবং তা আর খাওয়ার উপযোগী থাকবে না। রুদ্রসাগরের চারপাশে অবস্থিত বটতলী, চন্দনমুড়া, রাঙ্গামুড়া, গ্রামতলী, কেমতলী, মায়ারানী সহ একাধিক গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার কৃষক পরিবার এই পরিস্থিতিতে হতাশায় ভুগছেন। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সোনামুড়া-আগরতলা সড়কের বটতলী এলাকায় নির্মীয়মান সুইচ গেট ঘিরে তৈরি অস্থায়ী বাঁধের কারণেই বৃষ্টির জল তাদের জমিতে জমে যায়। সময়মতো যদি সেই বাঁধ খুলে দেওয়া হতো, তাহলে এই ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব ছিল বলে দাবি তাদের। তাই, অস্থায়ী বাঁধ খুলে দেওয়ার দাবিতে কৃষকরা বটতলী সুইচ গেট এলাকায় সোনামুড়া-আগরতলা সড়ক অবরোধ করেন।
পরে সোনামুড়া থানার ওসির তত্ত্বাবধানে বাঁধটি খুলে দেওয়া হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। জমিতে জমে থাকা জলের কারণে ইতিমধ্যেই নষ্ট হয়ে যায় অধিকাংশ ফসল।কৃষকদের বক্তব্য, এই জমিতে বছরে মাত্র একবারই চাষ করা হয়। ফলে এবারের বোরো ধানের ক্ষতি তাদের জন্য বড় ধাক্কা। তারা জানান, ধান সবে পাকতে শুরু করেছিল এবং ফলনও ভালো হওয়ার আশা ছিল। আর কয়েকদিন সময় মিলল সেই ধান ঘরে তুলে নবান্নের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারতেন তারা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে, জল থেকে কষ্ট করে ধান কেটে আনলেও তা আদৌ খাওয়ার উপযোগী থাকবে কি না, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় ভুগছেন কৃষকরা।

