বাড়িরাজ্যকাল বৈশাখীর তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত সাব্রুম, বিশ্রামগঞ্জ এবং সোনামুড়া মহকুমা

কাল বৈশাখীর তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত সাব্রুম, বিশ্রামগঞ্জ এবং সোনামুড়া মহকুমা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ এপ্রিল : রবিবার সন্ধ্যায় প্রায় সাড়ে ছয়টা থেকে শুরু করে দফায় দফায় ঝড়, বজ্রবিদ্যুৎ সহ শিলাবৃষ্টি। দীর্ঘ প্রায় ৪০ মিনিটের উপর চলে দমকা হাওয়া সহ প্রবল বৃষ্টি। আচমকা আছড়ে পড়া ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে বাড়িঘর, ভেঙে যায়। কোথাও বাড়িঘরের উপর বিশাল গাছ পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আবার কোথাও রাস্তাঘাট সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ঝড়ের দাপটে বহু জায়গায় বিদ্যুতিক খুঁটি ও তারের উপর গাছ পড়ায় বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত।

 যেমন, কাঠালিয়া ব্লক এলাকার দক্ষিণ মহেশপুর প্রশান্ত দেবের দোকান ঘরের উপর ভেঙ্গে পরে বিশাল আমগাছ। এতে করে ব্যাপক ক্ষতি হয় দোকান মালিকের। অপরদিকে একই পঞ্চায়েতের রত্না দের বাড়িতে ভেঙে পড়ে কাঠালিয়া বনদপ্তরের রেঞ্জ অফিসের একটি বহু পুরানো গাছ। যদিও বনদপ্তরের কর্মীরা খবর পেয়ে সকালবেলায় সোনামুড়া থেকে বনদপ্তরের মহকুমা আধিকারিক ও অন্যান্য কর্মীরা সহ সংঘবদ্ধ হয়ে স্থানীয় লোকজন মিলে গাছটি কেটে সরানোর চেষ্টা করে রত্নাদের বাড়ি থেকে। কাঠালিয়া পঞ্চায়েত এলাকার সাধন দাসের একটি ঘর ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে যায় বহু দূরে। অপরদিকে উত্তর পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আম্মা মুরা গ্রামের হত দরিদ্র বাসন্তী ত্রিপুরার বসতঘরের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে বলে খবর। অপরদিকে বিদ্যুৎ পরিষেবা রবিবার বিকাল থেকেই বন্ধ, বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ থাকার কারণে বিশেষ করে পানীয় জলের যথেষ্ট সংকট তৈরি হয়েছে।

এই নিয়ে বিদ্যুৎ কর্মীদের মধ্যে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করার উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ। এদিকে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিধ্বস্ত সাব্রুমের পানবাগান। জানা যায়, কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে এলাকার একাধিক পানবাগান। ঝড়ের তীব্র দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিতে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বটতলী গ্রাম পঞ্চায়েতের পানচাষীরা। স্থানীয় পানচাষী অর্জুন দে’র বাগান প্রায় সম্পূর্ণভাবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। একইভাবে চাষী দিলীপ দাসের পান বাগানেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বহু কষ্টে গড়ে তোলা তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন মুহূর্তের ঝড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে জানান অর্জুন দে। তিনি আরো বলেন, ঝড়ের কয়েক মিনিটেই সব শেষ হয়ে গেল, এখন কীভাবে সংসার চলবে বুঝতে পারছেন না। অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দিলীপ দাশ নামে আরও এক পান চাষি। তাদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিপূরনের ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের আশায়, দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে সরকার। অপরদিকে শিলাবৃষ্টিতে বিশ্রামগঞ্জ ননজলা এলাকার রুকিয়া বেগমের বসত ঘরে টিনের ছাউনি নষ্ট হয়ে যায়। সরকারি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য