বাড়িরাজ্যরাজ্যপালের ভাষণের মধ্যে দিয়ে শুরু হল বিধানসভা বাজেট অধিবেশন

রাজ্যপালের ভাষণের মধ্যে দিয়ে শুরু হল বিধানসভা বাজেট অধিবেশন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৩ মার্চ :শুক্রবার থেকে শুরু হল ত্রিপুরা বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক নির্ধারিত সময়ে শুক্রবার শুরু হয় বাজেট অধিবেশন। রাজ্যপালের ভাষণের মধ্যদিয়ে বাজেট অধিবেশনের সুচনা হয়। এইদিন অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, ২০৪৭ এর মধ্যে বিকশিত ভারত হওয়ার লক্ষ্যে যেভাবে ভারত বর্ষ এগিয়ে চলেছে, সেই দিশায় ত্রিপুরা সরকার এগিয়ে যাচ্ছে এবং অন্যতম সহযোগী হয়ে সার্বিক ক্ষেত্রে কাজ করছে। ত্রিপুরা সরকার ত্রিপুরার গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষমতায়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণকে শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্যাংক সখী কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র গ্রামীণ মহিলাদের সরাসরি বাড়ির দোরগোড়ায় ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হয়।

এটি আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং-এর ব্যবহারে উৎসাহিত করে। এই উদ্যোগের ফলে স্বসহায়ক দলের সদস্যরা আর্থিকভাবে স্বাধীন ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন। ত্রিপুরা সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ১০০ শতাংশ পরিবারে পানীয় জলের সংযোগ সুনিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। ত্রিপুরা সরকার ২,৫৪৪ টি অফিসে পুরোপুরিভাবে ই-অফিস বাস্তবায়ন করেছে। কাগজের ফাইল গুলিকে ডিজিটাইজড করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যব্যাপী ই-অফিস চালু করার ব্যাপারে ত্রিপুরা দেশের মধ্যে একমাত্র রাজ্যে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ত্রিপুরা সরকার ই-ক্যাবিনেট চালু করেছে। যার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪৩ টি বৈঠক এবং ৫৯৫ টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে কেবিনেটে কাগজ বিহীন প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় ত্রিপুরা জাতীয় পর্যায়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। ত্রিপুরা সরকার জনজাতি মানুষদের কল্যাণ ও উন্নয়নেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনজাতি কল্যাণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনে উল্লেখযোগ্য কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ রাজ্য সরকার তিনটি মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে বলে জানান রাজ্যপাল। ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত চতুর্পাখিক চুক্তি অনুযায়ী ৬,৯৩৫ টি ব্রু-পরিবারকে ১২টি স্থানে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ টি স্থানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ স্থান গুলিতে ৬,৬৭৮টি বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি সড়ক, বিদ্যালয়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, ন্যায্য মূল্যের দোকান ও সমবায় সমিতি সহ পূর্ণাঙ্গ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। রাজ্য সরকার নবী মুম্বাইয়ের খারগরে নতুন ত্রিপুরা ভবন নির্মাণের জন্য লিজ ভিত্তিতে ১,৯৭০.৩৬ বর্গমিটার জমি ক্রয় করেছে।

এছাড়া নয়া দিল্লির দ্বারকায় ত্রিপুরা ভবন সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ২,৯৩০ বর্গমিটার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্য সরকার কলকাতার সল্টলেকে ত্রিপুরা ভবনকে বড় করার অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া নতুন দিল্লির চাণক্য পুরীতে একটি অতিরিক্ত ভবন নির্মাণের জন্য ২.৯৫ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। রাজ্যের জিএসডিপি-তে বড় অবদান রাখে কৃষি। তাই রাজ্য সরকারের কাছে অগ্রাধিকারের বিষয় হল কৃষি। ২০২৫ সালের খারিফ মরশুমে উচ্চ ফলনশীল ধানের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে মুখ্যমন্ত্রী ইন্টিগ্রেটেড ক্রপ ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। যা ৪৭ হাজার ৯৪৭ হেক্টর জমিতে কার্যকর করা হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় রাজ্য বাজেট থেকে ১,৫০০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে কৃষকদের হেক্টর প্রতি ৫,৬৫০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ২৬ হাজার ৮৮৪ জন কৃষককে যুক্ত করে ২৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে জৈব চাষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার ২০২৫-২৬ রবি শস্য ঋতুতে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান চাষের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শস্যশ্যামলা যোজনা চালু করেছে। এই প্রকল্পে কৃষকের প্রতি হেক্টরে চার হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে জানান রাজ্যপাল। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বিধানসভার বাজেট অধিবেশন চলবে ২৫ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে মোট ৯ দিন বসবে অধিবেশন। ১৬ মার্চ বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী। আপাতত সকলের নজর এই বাজেটের দিকে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য