স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৪ ফেব্রুয়ারি : সুশাসন জামানায় উন্নয়নের ঢাক ঢোল যখন দিকে দিকে পেটানো হচ্ছে, তখন গুরুতর অভিযোগ নিয়ে থানায় গিয়ে পুলিশের দারস্থ হলেন এক বিধায়ক। বিধায়কের উন্নয়নমূলক কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এলাকার কুখ্যাত মাফিয়া। ৩ নং বামুটিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নয়ন সরকার। এলাকার উন্নয়ন তহবিল থেকে নবগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছিলেন। গত শুক্রবার নবগ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত চিন্তা হরণ দেবনাথ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পেছনে অবস্থিত জনবহুল গ্রামে দুটি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর মধ্যে একটি লাইট স্থাপন করা হয়। দ্বিতীয় লাইট বসাতে প্রস্তুতি নিতে লাগলে শ্রমিকদের বাধা দেয় স্থানীয় চিন্তা হরণ দাসের ছেলে বিকাশ দাস, হেমেন্দ্র দাসের ছেলে উৎপল দাস, করন ভট্টাচার্য, তাপস চৌধুরী নামে চারজন এবং তাদের সঙ্গপাঙ্গরা। এবং প্রথম লাইটি খুলে উপড়ে ফেলে দেয়। এলাকায় লাইট লাগাতে দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন বলে অভিযোগ বিধায়কের। বিধায়ক আরো জানান, বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের টাকা জনগণের। এগুলির জনগণের স্বার্থে ব্যয় করতে চান তিনি।
এদিকে মন্ডলের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয় থানায়। তাদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন আগে স্ট্রিট লাইট বসানোকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করেন বামুটিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নয়ন সরকার। এই পোস্টে তিনি কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন এবং বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তবে মঙ্গলবার পরিস্থিতি অন্য মোড় নেয়। যাদের বিরুদ্ধে বিধায়ক অভিযোগ তুলেছিলেন, তারাই এবার এয়ারপোর্ট থানায় গিয়ে বিধায়ক নয়ন সরকারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন বামুটিয়া মন্ডল সভাপতি শিবেন্দ্র দাস এবং নবগ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিকাশ দাস। তাদের দাবি, স্ট্রিট লাইট বসানো নিয়ে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা জানান, প্রকল্প অনুযায়ী নিয়ম মেনেই কাজ হয়েছে। এলাকাবাসীর সুবিধার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানোত্তর। এখন দেখার বিষয়, পুলিশের তদন্তে শেষ পর্যন্ত কোন বের হয়ে আসে। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে একদিন আগে সংবাদ মাধ্যমকে বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেছিলেন বিধায়ক নয়ন সরকার। কিন্তু কাজ না হওয়ায় পুলিশের দারস্থ হয়ে মামলা করতে বাধ্য হলেন তিনি।

