Tuesday, February 10, 2026
বাড়িরাজ্যকোশ্চেন ব্যাংক বিতরণ করে বিতর্কে জড়ালেন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী

কোশ্চেন ব্যাংক বিতরণ করে বিতর্কে জড়ালেন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১০ ফেব্রুয়ারি : মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কোশ্চেন ব্যাংক বিতরণের নামে নিজের নাম ছবি সহ বিজেপি-র বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে নতুন নজির সৃষ্টি করলেন নলছড়ের বিধায়ক তথা রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও পঞ্চায়েত দপ্তরের মন্ত্রী কিশোর বর্মন। রাজ্যের কোন জনপ্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার স্বার্থে বই বিতরণ করবে সেটা ভালো কথা, কিন্তু এই বই বিতরণের নামে সেই বইয়ে জন প্রতিনিধির ছবি সহ নাম এবং দলের চিহ্ন ছাপিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করা তা অবশ্যই এই রাজ্যে প্রথমবার।

উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের বই বিতরণ করেন এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, কিন্তু এই অনুষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার পর ছাত্র-ছাত্রীরা সেই বইয়ের পাতায় মন্ত্রীর নিজের ছবি সহ নাম এবং বিজেপির দলীয় চিহ্ন ছাপানো দেখতে পায়। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সঞ্চার হলেও মন্ত্রী বলে কথা কেউ মুখ ফুটে কিছু বলতে সাহস পায়নি। মন্ত্রী ছাত্র-ছাত্রীদের বই বিতরণ করেছেন ভালো কথা কিন্তু নিজের ছবি নাম এবং বিজেপির দলীয় চিহ্ন না ছাপালেই পারতেন। অনেকেই মনে করছেন এটা উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন মানুষের কাছে নিজেকে আরও বেশি করে প্রচারের জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তাও আবার বই বিতরণের কৌশলে। এমনভাবে মন্ত্রীর ছবির নাম এবং বিজেপির দলীয় চিহ্ন ছাপানো হয়েছে যা বই খোলার আগেই যেন এগুলি ছাত্রছাত্রীদের নজরে আসে। মঙ্গলবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী কিশোর বর্মন। যদিও প্রথমে তিনি বলেন আজকের সাংবাদিক সম্মেলন এ বিষয়ে নিয়ে নয়। তারপরও তিনি বলতে চান, প্রতি বছর তিনি মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করার জন্য উপায় হিসেবে এক্সপার্টদের দিয়ে কোশ্চেন ব্যাংক তৈরি করে বিতরণ করেন। যার ফলে ২০২২ সাল থেকে বছর বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশের সংখ্যা উনার বিধানসভা কেন্দ্রে বৃদ্ধি পেয়েছে। এবছর কোশ্চেন ব্যাংকের উপর তাঁর ছবি ছাপিয়ে দিয়েছেন কার্যকর্তারা। তিনি আরো বলেন, এই উদ্যোগ কোন সরকারি ভাবে নয়, ব্যক্তিগতভাবে তিনি ছাত্রছাত্রীদের জন্য কোশ্চেন ব্যাংক প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বুঝতে পেরেছেন সমালোচনার ঝড় বইছে সামাজিক মাধ্যমে। তিনি বলেন সিপিআইএমের সময় এই ধরনের উদ্যোগ কখনো লক্ষ্য করা যায়নি। তারা চাইতো ছেলেমেয়েরা মূর্খ থাকলে তাদের নিয়ে রাজনীতি করতে। তবে বিষয়টি নিয়ে গোটা রাজ্যের সমালোচনার ঝড় বইছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য