স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা।২ ফেব্রুয়ারি : ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। রবিবার সংসদে পেশ করা এইবারের বাজেটে বিকশিত ভারতের ঝলক ফুটে উঠেছে। ভবিষ্যতে দেশ কোন দিকে যাবে সেই বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে এইবারের বাজেট করা হয়েছে। সোমবার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই কথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। এইদিনের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মুখ্যমন্ত্রী দেশের প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
পাশাপাশি তিনি বলেন এইবারের বাজেটে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। জোর দেওয়া হয়েছে মূলধনি ব্যয়ের উপর। ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে যথেষ্ট মজবুত। ভারতের অর্থনীতি মজবুত থাকার কারনে দেশ দ্রুত গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা প্রয়াস ও সবকা বিকাশ এইবারের বাজেটে ফুটে উঠেছে। প্রতিটি পরিবারের যেন আয় বৃদ্ধি পায়, প্রতিটি মানুষের যেন আর্থ সামাজিক মান উন্নয়ন হয় সেই দিকেও এইবারের বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এইবারের বাজেট কৃষি উন্নয়নের বাজেট। গরিব, কৃষক, মহিলা ও যুবকদের গুরুত্ব দিয়ে এইবারের বাজেট করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করার উপরও এইবারের বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য ও ট্রমা সেন্টারের উপরও এইবারের বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এতে ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য সুবিধা হবে। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনকে আরও বেশি শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এইবারের বাজেটে। ক্যান্সারের ১৭ টি ঔষধ ও ৭ টি বিরল রোগের ঔষধের মূল্য হ্রাস করে দেওয়া হয়েছে এইবারের বাজেটে। শিক্ষার পরিকাঠামো সম্প্রসারণ ও আধুনিকিকরণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এইবারের বাজেটে। সড়ক, রেল ও বিমান পরিষেবার উন্নয়নে বেশকিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। হাইস্পিড রেল করিডোর করার সংস্থান রাখা হয়েছে এইবারের বাজেটে। যুব সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অনেক গুলি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। নবীকরণ যোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির উপর এইবারের বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কর ব্যবস্থাকে সরলীকরণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগে কোন কর দাতা কর ফাকি দিলে জেলে পর্যন্ত যেতে হত। এইবারের বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে কেউ কর ফাকি দিলে আর জেল নয়, দিতে হবে জরিমানা। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এইবারের বাজেটে বিগত বছরের বাজেটের তুলানয় এইবারের বাজেটে ১ লক্ষ কোটি টাকার অধিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে প্রতিটি দপ্তরের সাথে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এইবারের বাজেটে। এখন থেকে সরাসরি ভারতীয় শেয়ার বিদেশিরা ক্রয় করতে পারবে।
এইবারের বাজেটে তিনটি কর্তব্য ঘোষণা করা। সেই গুলি হল প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করে টেঁকসই অর্থনীতি রাখা। মানুষের সক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য অংশীদার হওয়া। এবং সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস ও সবকা প্রয়াস। এইবারের বাজেটে ৭ টি কৌশল গত শিল্পের উন্নয়ন বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই গুলি হল বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরানো শিল্প গুলিকে পুনঃরুদ্ধার করা। ক্ষুদ্র শিল্প গুলিকে শক্তিশালী করা, দীর্ঘ মেয়াদি উন্নয়ন করা, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা। অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম, মিজোরাম, আসাম, মনিপুর এবং ত্রিপুরাকে নিয়ে একটি বৌদ্ধিস্ট সার্কিট করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এইবারের বাজেটে। এইবারের বাজেটে পর্যটনের উপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এইদিন দাবি করেন এইবারের বাজেট জনমুখি বাজেট, সাধারন মানুষের বাজেট। সকল অংশের মানুষ এই বাজেটকে স্বাগত জানাচ্ছে। এইদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহার সাথে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ রেবতী কুমার ত্রিপুরা, বিজেপি সিপাহীজলা জেলা পরিষদের সভাধিপতি, প্রদেশ বিজেপির মিডিয়া ইনচার্জ সুনিত সরকার সহ অন্যান্যরা।

