Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যআদিবাসীদের অধিকার নিয়ে খেলা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার : বৃন্দা কারাত

আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে খেলা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার : বৃন্দা কারাত

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৯ জানুয়ারি:  বৃহস্পতিবার আগরতলা টাউন হলের সামনে জিএমপি -র পতাকা উত্তোলন করে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির ২৩ তম সম্মেলনের সূচনা হয়। সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন সংগঠনের সভাপতি নরেশ জমাতিয়া। সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের পর উপস্থিত সকলে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারপর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম-এর সর্বভারতীয় নেত্রী বৃন্দা কারাত, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী, নরেশ জমাতিয়া, রাধা চরণ দেববর্মা সহ অন্যান্যরা।

 তারপর রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম-এর সর্বভারতীয় নেত্রী বৃন্দা কারাত। তিনি বক্তব্য রেখে বলেন, দেশে মিথ্যার মেনুফ্যাকচারিং তৈরি হয়ে আছে। যতজন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন তারা মিথ্যার মেনুফ্যাকচারিং কোম্পানির ডাইরেক্টর হয়ে রাজ্যে রাজ্যে বসে আছেন। তাদের চেয়ারম্যান বসে আছে দিল্লিতে। প্রতিদিন দেশে চলছে জুমলা আর মিথ্যার ম্যানুফ্যাকচারিং। তিনি আরো বলেন, গণমুক্তি পরিষদ আদিবাসী মহিলাদের অধিকার সুরক্ষিত করার জন্য কাজ করে।

 কিন্তু বিভাজনের রাজনীতির উপর ভর করে কখনো উন্নয়ন সম্ভব হয় না। আরো বলেন, আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে খেলা করছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ডাবল ইঞ্জিন সরকার। বিজেপিকে আগামী দিন জবাব দিতে আহ্বান করেন বিন্দা কারাত। তিপরা মথার দিকে আঙ্গুল তুলে বলেন, প্রাক্তন সাংসদ সরাসরি বলে দিয়েছে সঠিক রাস্তায় যদি না চলে তাহলে জেলে পাঠাবে। ফলে তিপরা মথার সম্মান কোথায়? শুধুমাত্র অর্থ আর আসন হলেই তাদের চলে। এভাবেই বিন্দা কারাত বিজেপি এবং মথাকে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান কারোর পিতৃ সম্পত্তি নয়। এগুলির অধিকার দেশের সংবিধান দেয়। স্কলারশিপ, শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা সবকিছুই আজ ত্রিপুরা থেকে মুছে যাচ্ছে বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য। শুধু তাই নয় এক অংশের মানুষের সঙ্গে অন্য অংশে মানুষের মধ্যে বিভাজনের চেষ্টা করে দেশের সংবিধানের উপর আঘাত নামিয়ে আনছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী মঞ্চ থেকে বক্তব্য রেখে বলেন, ২০১৮ সালের ত্রিপুরা রাজ্যে গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে। কুমা থেকে একেবারে কবরে ঠেলে দিয়েছে বিপ্লব কুমার দেব এবং মানিক সাহারা। এই গণতন্ত্রকে কবর থেকে তুলে আনতে হবে।

গণতন্ত্র বাঁচলে এডিসি বাঁচবে, তিপ্রাসার সংস্কৃতি বাঁচবে, ককবরক সংস্কৃতি বাঁচবে, কর্মসংস্থান হবে, চিমনি থেকে ধোঁয়া উঠবে, কলকারখানা হবে। কিন্তু গণতন্ত্র না থাকলে সব বিসর্জন হবে। তিনি আরো বলেন, বিজেপি এবং তিপরা মথা দেখাচ্ছেন একমাত্র তারাই কাজ করছে। কিন্তু তাদের কাজ হল অর্থ এবং আসন দখল করা। অথচ এ রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন অনুপস্থিত। বিজেপি, আইপিএফটি এবং তিপ্রা মাথার চিন্তাতে ত্রিপুরার চিন্তা নেই। তারা চিন্তা তিপরাল্যান্ড, গ্রেটার তিপরাল্যান্ড এবং নো-তিপরাল্যান্ড। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন নিউ ত্রিপুরা, নিউ ত্রিপুরা মানে হলো মন্ডল ত্রিপুরা। লুটপাট, ডাকাতি বলে কাঠগড়ায় তুললেন তিনি। এইদিনের সমাবেশে কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য