স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ জানুয়ারি :শ্রীনগরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আরো এক তরুণী গৃহবধূর রক্তাক্ত দেহ মিলল সালেমা মোটর স্ট্যান্ড এলাকায়। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও ফরেন্সিক টিম। মৃতার নাম লিপিকা শর্মা, বয়স ২৭। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লিপিকার মাথায় সজোরে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। জানা গেছে, লিপিকা দীর্ঘদিন ধরে বাপের বাড়িতেই থাকতেন।
তার বাবা জানিয়েছেন, প্রেমঘটিত কোনো সংঘাত থেকেই মেয়ের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। লিপিকার স্বামী দীপক দেবনাথের বাড়ি মানিকভান্ডার ঘাটি এলাকায়। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান সালেমা থানার ওসি দীপক দাস সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা। পরে ফরেনসিক টিম এসে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে।
মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে। খুব শীঘ্রই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হবে বলে আশাবাদী পুলিশ। তরুণী গৃহবধূর স্বামী জানান তিনি মানিক ভান্ডারে থাকেন। স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ নয় বছর ধরে সম্পর্ক নেই। তাদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে বিচ্ছেদের পর কন্যা সন্তানটি তার স্ত্রীর কাছে থাকতো। কিন্তু এর মধ্যে একটি পকসো মামলায় জড়িয়ে পড়েন তার স্ত্রী।
তখন তার মেয়েকে নিজ বাড়িতে নিয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি করান। তারপর জানতে পেরেছিলেন সুজিত দাস নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্ক রয়েছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সকালে শশুর বাড়ির লোকজন ফোন করে জানায় মেয়েকে নিয়ে তাড়াতাড়ি আসার জন্য। বাড়িতে এসে দেখেন ঘরের পেছনে পড়ে রয়েছে স্ত্রীর মৃতদেহ। পুলিশের কাছে তার শশুর জানিয়েছেন, খুনের সাথে জড়িত থাকতে পারে সুজিত দাস।তবে প্রশ্ন উঠছে শ্রীনগরের পর সালেমায় তরুণী গৃহবধূ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পেছনে কি রহস্য থাকতে পারে। আসলে কি পুলিশ এই ঘটনাগুলি পেছনে কোন বড় রহস্য থাকতে পারে? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ বিভিন্ন সময় পরক্রিয়া এবং নারী অপহরণের অভিযোগ উঠছে। এই ঘটনাগুলি কোন দিক করতে পারছে না পুলিশ। আসলে পাচার নাকি অন্য কোন ঘটনা সেটাও সামনে আসছে না সাধারণ মানুষের। আইন শৃঙ্খলা নিয়েও আঙ্গুল তুলছে সাধারণ মানুষ। এখন দেখার বিষয় মূলত তদন্তে কি বের হয়ে আসে।

