স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৫ জানুয়ারি : গোপন খবরের ভিত্তিতে রাজধানীর জয়পুর এলাকা থেকে পলাতক প্রদেশ যুব কংগ্রেস নেতা শাহজাহান ইসলামকে আটক করলো পশ্চিম আগরতলা থানা পুলিশ। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে সে পলাতক ছিল। তার বিরুদ্ধে মূলত প্রধান অভিযোগ হল মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর। ২০২৫ সালের ৮ জুন রাতের বেলায় যুব কংগ্রেস নেতা শাহাজান ইসলাম সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করে। যার জেরে রাজধানীর শান্তিপাড়া এলাকায় অশান্তি দেখা দেয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রদেশ বিজেপির কোষাধ্যক্ষ নাগাধিরাজ দত্ত পশ্চিম আগরতলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পাল্টা মামলা দায়ের করা হয় শাহাজান ইসলামের পক্ষ থেকে। এই ঘটনায় পুলিশ শাহাজান ইসলামের বাবা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু শাহাজান ইসলাম পলাতক ছিল। বর্তমানে শাহাজান ইসলামের বাবা ও ভাই জামিনে মুক্ত রয়েছে। পলাতক থাকা অবস্থায় শাহাজান ইসলাম নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন করে। কিন্তু নিম্ন আদালত শাহাজান ইসলামের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। তার পর সে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করে। হাইকোর্টেও জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তারপর সে সুপ্রিমকোর্টে জামিনের আবেদন করে। কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট তাকে ২ জানুয়ারির মধ্যে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেয়। অবশেষে ৭ মাস আত্মগোপন করে থাকার পর সোমবার শাহাজান ইসলাম পুলিসকে তার অবস্থানের বিষয়ে জানায়। তারপর পুলিশ সোমবার সকালে রাজধানীর জয়নগর এলাকায় যাওয়ার পর সে আত্মসমর্পণ করে। এবং তাকে পশ্চিম আগরতলা থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
তবে এই ক্ষেত্রেও একটা ধুয়াসা রয়েগেছে। কারন শাহাজান ইসলামের পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণের দাবি করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে। পশ্চিম আগরতলা থানায় সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়নগর এলাকা থেকে শাহাজান ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাহলে ৭ মাস ধরে পুলিশ কেন তাকে গ্রেপ্তার করতে পারল না। তার জবাব দিতে গিয়ে সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জানান দীর্ঘ দিন ধরে শাহাজান ইসলাম রাজ্যের বাইরে ছিল। পুলিশ অন্য মামলার ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বহিঃরাজ্য থেকে গ্রেপ্তার করে আনতে পারলে, শাহাজান ইসলামকে কেন পারল না। এই প্রশ্নের জবাবে সদর মহকুমা পুলিশের বক্তব্য এক প্রকার হাস্যকর।
কারন তিনি জানান দীর্ঘ ৭ মাস ধরে শাহাজান ইসলাম মোবাইল ব্যবহার করে নি। যার কারনে তার লোকেশন জানতে পারছিল না পুলিশ। তিনি আরও জানান শাহাজান ইসলাম জেলা আদালতে জামিনের যে আবেদন করেছে, সেই আবেদন পত্রে তার স্বাক্ষর নকল করেছে। তার জন্য তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার শাহাজান ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। তবে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এইদিন শাহাজান ইসলামকে নিয়ে যে সকল তথ্য দিয়েছেন, সেই সকল তথ্যের সাথে অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতার যে কোন মিল নেই, তা যে কেউ বুঝতে পারবে। কারন শাহাজান ইসলাম মোবাইল ব্যবহার না করলে সে কি ভাবে পরিবারের লোকজন সহ তার আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করেছে। এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর সকলের অজানা। সে যাই হোক এখন দেখার আদালত শাহাজান ইসলামের জামিনের আবেদনে সাড়া দেয় কিনা।

