Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যদুঃসাহসিক চুরি, গ্রামে চোরের আতঙ্ক

দুঃসাহসিক চুরি, গ্রামে চোরের আতঙ্ক

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২২ ডিসেম্বর : উত্তর ত্রিপুরায় দাপট বাড়াচ্ছে চোর–ডাকাতের দল। ফাঁকা বাড়ি দেখলেই যেন শুরু হয়ে যায় চোরের ‘সাফাই অভিযান’। সময় পেলেই অদৃশ্য শক্তির মতো নিঃশব্দে হানা দিচ্ছে চোরের দল। এর জেরে কার্যত নাকানিচুবানি খেতে হচ্ছে ত্রিপুরার উত্তর জেলার পুলিশ প্রশাসনকে। একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কয়েক মাস আগেই জানা গিয়েছিল, চোর–ডাকাত ও মাদক কারবারিরা পুলিশি গতিবিধি নজরে রাখতে আলাদা ‘পুলিশ এলার্ট গ্রুপ’ তৈরি করে অপকর্ম চালাচ্ছে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেই কৌশল এখনও বহাল রয়েছে। এরই মাঝে চলতি দুর্গাপুজোর নবমীর ভোরে সিনেমার কায়দায় ধর্মনগর সাব-জেল থেকে ছয়জন বিচারাধীন আসামি জেল পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে চারজন পুনরায় আটক হলেও দু’জন কুখ্যাত ডাকাত এখনও পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে ওই ডাকাত চক্র এখনও সক্রিয় কিনা, তা নিয়েও ঘনীভূত হচ্ছে সংশয়। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সন্ধ্যায় একই কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটল কদমতলা থানা এলাকায়। কদমতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কদমতলায় ঘটে যাওয়া এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ির মালিক তপন মালাকার জানান, তিনি পেশায় একজন গাড়ি চালক। রবিবার সন্ধ্যায় কাজের সূত্রে বাইরে ছিলেন।

 তার স্ত্রী কৃষ্ণা মালাকার ঘরের দরজায় তালা দিয়ে সন্তানদের নিয়ে বাড়ির পাশের কালাচাঁদ মন্দিরে সাপ্তাহিক কীর্তনে যান। সেই সময় বাড়িটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চোরের দল বাড়ির সীমানার টিন ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। কীর্তন শেষে বাড়িতে ফিরে এসে কৃষ্ণা মালাকার দেখতে পান ঘরের দরজার তালা ভাঙা। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও কদমতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে এসে দেখেন—বসতঘরের প্রধান দরজার তালা ভাঙা, আলমারির সমস্ত লকার ভাঙা এবং ঘরের ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে আছে। গৃহস্থের দাবি অনুযায়ী, চোরের দল ঘর থেকে নগদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা, স্বর্ণের দুই জোড়া কানের দুল, একটি আংটি, ছয়টি চুড়ি, দুই জোড়া নূপুর সহ আলমারিতে রাখা একাধিক মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চম্পট দেয়। ঘটনার খবর পেয়ে কদমতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এলাকাবাসীর ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে এই কারণে যে, ১০–১২ দিন আগেও একই এলাকায় সন্ধ্যাবেলা একই কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটলেও আজ পর্যন্ত সেই ঘটনার কোনও সুরাহা করতে পারেনি পুলিশ। ফলে এবারও চোর ধরপাকড় নিয়ে পুলিশের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সব মিলিয়ে উত্তর জেলার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জেলা জুড়ে বাড়ছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ। সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া এই ক্ষোভ যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য