স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৪ নভেম্বর : রাজ্যে উচ্চশিক্ষার পরিবেশকে উন্নত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বর্তমান সরকার। জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) এর লক্ষ্য বহুমুখী-বিষয়ক শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, মূল্য ভিত্তিক শিক্ষা এবং বৈশ্বিক প্রস্তুতির প্রসার করা।
আজ আগরতলার টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরা এর নতুন পরিকাঠামো সুবিধার উদ্বোধন ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজকের এই ইভেন্ট শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য মাইলফলক নয়, এটি ত্রিপুরার শিক্ষার উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে থাকবে। আমি মনে করি এটি আমাদের রাজ্যে উচ্চশিক্ষার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতিফলন এবং আমি এই উন্নয়ন সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে পেরে আনন্দিত। আজ টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরা, টেকনো কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং, আগরতলায় প্রায় ২,৮০০ ছাত্রছাত্রী রয়েছে। ত্রিপুরার পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্য যেমন পাঞ্জাব, অরুণাচল প্রদেশ, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আমাদের প্রতিবেশী বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীও রয়েছে। যা এই প্রতিষ্ঠানের ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধিকে তুলে ধরছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষা নীতির লক্ষ্য বহুমুখী শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, মূল্য ভিত্তিক শিক্ষা এবং বৈশ্বিক প্রস্তুতির প্রসার করা। এটি শিক্ষার জন্য একটি উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করে এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ তৈরির জন্য ছাত্রছাত্রীদের প্রস্তুত করার লক্ষ্যে গুরুত্ব তুলে ধরে। ত্রিপুরা সরকার রাজ্যে উচ্চশিক্ষার পরিবেশকে উন্নত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে ত্রিপুরাকে একটি লিডিং হাবে পরিণত করা- আমাদের মন্ত্রী ইতিমধ্যে এবিষয়ে কথা বলেছেন- উত্তর-পূর্বে শিক্ষাগত উৎকর্ষের জন্য। আমরা শক্তিশালী পরিকাঠামো তৈরি, ফ্যাকাল্টিদের গুণমানের উন্নতি এবং সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষাগত ক্ষেত্রে উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি। আমাদের নীতি ও উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের উন্নতি করতে পারে, শিখতে পারে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তুলতে পারে, যা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পর্যায়ে না থেকে, আমাদের রাজ্য ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে অবশ্যই শিল্প, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং গোষ্ঠীর উন্নয়নের প্রয়োজনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।
আমরা এটা দেখে গর্বিত যে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বৈজ্ঞানিক গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা, আইনি সচেতনতা প্রচার সহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ছাত্রছাত্রীদের যুক্ত করছে। গত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি দ্রুত পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, সম্প্রসারণ সংযোগ এবং যুবদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির। আমাদের সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেখানে শিক্ষা একটি বিশ্ব মানের, প্রযুক্তি-নির্ভর বিশ্বের জন্য পরবর্তী প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তাই আমি সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের কাছে নিজেদের উপলব্ধ সম্পদ ও সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার জন্য আহ্বান জানাই।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, ত্রিপুরায় একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সহ তিনটি মেডিকেল কলেজ, একটি ডেন্টাল কলেজ, একটি বিএসসি নার্সিং কলেজ, একটি ফার্মাকোলজি কলেজ এবং এএনএম ও জিএনএম প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমাদের ২৮টি সাধারণ ডিগ্রি কলেজ, ৬টি পলিটেকনিক কলেজ, ৫টি প্রফেশনাল কলেজ এবং একটি ডিগ্রী টেকনিক্যাল কলেজ রয়েছে। এছাড়া টিআইটি রয়েছে, যেটিকে আমরা একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনা করছি। আমাদের একটি এনআইটি, এনএফএসইউ (ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্স ইউনিভার্সিটি), এগ্রিকালচারাল কলেজ, ভেটেরিনারি কলেজ, সেন্ট্রাল সংস্কৃত ইউনিভার্সিটি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে। সেই সঙ্গে প্রক্রিয়াধীন অনেক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং আশা করি তারাও ত্রিপুরায় তাদের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুযোগ নেবে।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মন, টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর প্রফেসর সত্যম রায় চৌধুরী, টেকনো ইন্ডিয়ার কো চেয়ারপার্সন প্রফেসর মানসী রায় চৌধুরী, ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলর পদ্মশ্রী প্রফেসর অরুণোদয় সাহা, টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. রতন কুমার সাহা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।

