Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যঅপ্রাপ্তবয়স্ক  কিশোর-কিশোরীদের মোটরচালিত যানবাহন চালনায় নিষেধাজ্ঞা জারী ত্রিপুরা পুলিশের

অপ্রাপ্তবয়স্ক  কিশোর-কিশোরীদের মোটরচালিত যানবাহন চালনায় নিষেধাজ্ঞা জারী ত্রিপুরা পুলিশের

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৪ নভেম্বর : রাজধানী আগরতলা সহ গোটা ত্রিপুরা রাজ্য জুড়েই গত কয়েক মাসে যান সন্ত্রাস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষত কিশোর–কিশোরীদের বেপরোয়া বাইক–স্কুটি চালানো এখন পথ নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুলবয়সী ছেলেমেয়েরা দল বেঁধে রাস্তায় নামছে, হেলমেটবিহীন গতিদানবের মতো ছুটছে, যার জেরে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট–বড় দুর্ঘটনা। শুধু চালকেরাই নয়, এই বেপরোয়া আচরণের বলি হচ্ছেন সাধারণ পথচারীরাও। সামাজিকভাবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—অনেক ক্ষেত্রেই অভিভাবকরাই আদর–দুলার দেখাতে গিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের হাতে মোটরচালিত যান তুলে দিচ্ছেন, যা আইনত অপরাধ তো বটেই, সন্তানের জীবনেও তৈরি করছে গভীর ঝুঁকি। এই পরিস্থিতিতে এবার কঠোর অবস্থান নিল ত্রিপুরা পুলিশ।১৮ বছরের নিচে কোনোভাবেই মোটরচালিত যান চালানো চলবে না, পুলিশের স্পষ্ট বার্তা। শুক্রবার ত্রিপুরা পুলিশের পক্ষ থেকে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে— মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্ট, ১৯৮৮–এর ধারা ১৯৯এ (Section 199A) অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে কোনো কিশোর–কিশোরীর মোটরচালিত যানবাহন চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। আইনের ভাষায়,

অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের ক্ষেত্রে অপরাধ শুধু তার নয়—গাড়ির মালিক, অভিভাবক বা যে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যানটি ব্যবহার করতে দিয়েছে, তাকেও সমান দায়ী গণ্য করা হবে। পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে নিম্নলিখিত শাস্তিগুলি স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রথমত অভিভাবক বা গাড়ির মালিকের জন্য ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড (যদি আদালত গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পায়) অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ১ বছরের জন্য বাতিল। দ্বিতীয়ত, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক

ভবিষ্যতে ২৫ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন না। আইনের উদ্দেশ্য পরিষ্কার— শাস্তি দিয়ে ভয় দেখানো নয়, বরং প্রাণরক্ষার জন্য দায়িত্ববোধ জাগানো।ত্রিপুরায় কিশোরদের বেপরোয়া বাইক–সংস্কৃতি এখন এক ধরনের সামাজিক ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।কচিকাচাদের হাতে স্কুটি–বাইক তুলে দিয়ে অনেকে মনে করেন স্বাধীনতা দিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে এটি মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। অল্প বয়সে গতি নিয়ন্ত্রণের অভাব, ট্রাফিক নিয়ম সম্পর্কে অজ্ঞতা, বন্ধুদের সামনে ‘দেখানোর’ মানসিকতা, রাতের বেলা দৌরাত্ম্য হেলমেট বা সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব। এসবের ফলেই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে। পুলিশ মনে করিয়ে দিয়েছে—একটি পরিবারের ভুল সিদ্ধান্ত পুরো সমাজকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে।পুলিশের কড়া বার্তা- এবার আর কোনো ছাড় নয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সারাদেশের মতো ত্রিপুরাতেও শূন্য সহনশীলতা নীতি (Zero Tolerance Policy) চালু করা হচ্ছে কিশোরদের বেপরোয়া বাইক চালানো রুখতে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, চৌমুহনী, বাজার এলাকা এবং স্কুল–কলেজ গেটের সামনে অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হবে। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে প্রমাণ পেলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের ভাষায়— রাস্তায় একটি প্রাণহানি মানেই একটি পরিবারের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়া। তাই আইন সবার জন্য সমান—বয়স যতই কম হোক। প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় যান সন্ত্রাস রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ অবশ্যই স্বাগতযোগ্য। তবে এর সঙ্গে প্রয়োজন, সচেতন অভিভাবক, দায়িত্বশীল সমাজ এবং ট্রাফিক শিক্ষার প্রসার। আইন যদি নিরাপত্তার ঢাল হয়, তবে সচেতনতা হবে দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা বলে অভিমত সচেতন নাগরিক সমাজের।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য