স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১২ নভেম্বর : অপু দাসের মতো মোস্ট ওয়ান্টেড হতে না পারা মান্তনু সাহার গোডাউনে অভিযান চালালো ক্রাইম ব্রাঞ্চ। গত ১৬ অক্টোবর জিরানিয়া রেল স্টেশন থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নেশা জাতীয় কফ সিরাপ। দিল্লি থেকে আগরতলা গামী মালবাহী রেলের দুইটি ওয়াগন থেকে এই নেশা সামগ্রী উদ্ধার হয়। এই ঘটনার তদন্ত নেমে পুলিশ একের পর এক রাঘব বোয়ালকে আটক করছে। এখন পর্যন্ত মান্তনু সহ মোট চারজনকে জালে তুলেছে পুলিশ। বিএসএফ, পুলিশের কিছু আধিকারিক যুক্ত থাকায় এই ঘটনায় ক্রাইম ব্রাঞ্চ জালে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে কলমচৌড়া থানাধীন বড়মুড়া এলাকার অভিযুক্ত অপু দাসকে।
অপু দাস পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের চোখে ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে পালিয়ে গেছে বলে সুত্রের খবর। তার সাথে জড়িত পুলিশ আধিকারিক, বিএসএফ এবং এক বিধায়ক। কিন্তু পালাতে পারেনি মান্তনু। দুবাই থেকে রাজ্যে ফেরার পর তাকে জালে তুলে তদন্তে নামে ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা। ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা মান্তনু সাহার বাড়ি থেকে বেশকিছু নথি উদ্ধার করে। গ্রেপ্তার করা হয় মান্তনু সাহাকে। মঙ্গলবার ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা হানা দেয় বক্সনগরের অপু রঞ্জন দাসের বাড়িতে। অপু রঞ্জন দাসের বাড়ি থেকেও ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিক কিছু নথি উদ্ধার করে। তবে অপু রঞ্জন দাস পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বুধবার ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা হানা দেয় ধৃত মান্তনু সাহার আমতলি বাইপাস এলাকার গোডাউনে। ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা এইদিন মান্তনু সাহার গোডাউন থেকে বেশকিছু নথি উদ্ধার করে। ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিক সুকান্ত সেন চৌধুরী জানান তারা জানতে পেরেছেন আমতলি বাইপাস এলাকায় মান্তনু সাহার একটি গোডাউন রয়েছে। সেই মোতাবেক এইদিন মান্তনু সাহার গোডাউনে হানা দিয়েছেন।
গোডাউন থেকে কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে সূত্রে খবর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বহু প্রশাসনিক কর্মী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা বিধায়ক। যারা ক্রাইম ব্রাঞ্চের তালিকায় থাকলেও জিজ্ঞাসা করার মতো হিম্মত নেই ক্রাইম ব্রাঞ্চের কোন আধিকারিকের। তাই বিষয়টি নিয়ে ক্রাইম ব্রাঞ্চ চাইছে সিবিআই তদন্ত করা হোক। সিবিআই তদন্ত হলে সেই সব রাঘববোয়াল জালে উঠবে। তারা বহুবার জিরানিয়া রেল স্টেশনে ফেনসিডিল পাচার করেছে বলে সূত্রের খবর। যাইহোক বিষয়টি তদন্তে উঠে আসবে বলে মনে করছে সচেতন মহল।

