স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৬ নভেম্বর :বৃহস্পতিবার ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজ্য ব্যাপী গন অবস্থান সংগঠিত করল প্রদেশ কংগ্রেসের একাধিক শাখা সংগঠন। রাজধানী আগরতলা শহরের রাধানগর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এই গনঅবস্থান সংগঠিত করা হয়।
নেশা কারোবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সরকারি দপ্তরের সকল শূন্য পদ পূরণ, সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা বেসরকারিকরণ বন্ধ করা, ধর্ষণ, খুন সহ সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ প্রদান, ১২৫ তম সংবিধান সংশোধনী বিল অবিলম্বে পার্লামেন্টে পাস করানো, ককবরক ভাষাকে রোমান হরফে লেখার সরকারি অনুমোদন প্রদান, অটো, টমটম, ই-রিকশা চালকদের হয়রানি বন্ধ করে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা এবং নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি হ্রাস করার দাবিতে এই গনঅবস্থান সংগঠিত করা হয়।
উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা, কংগ্রেস বিধায়ক সুদিপ রায় বর্মণ সহ অন্যান্যরা। গনঅবস্থানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুদিপ রায় বর্মণ বলেন বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ৫১ হাজার শূন্য পদ রয়েছে। অথচ সরকারে আসার পূর্বে বিজেপি বছরে ৫০ হাজার চাকুরি প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। কোথায় গিয়েছে সেই প্রতিশ্রুতি। বর্তমানে একটা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ২ থেকে ৩ বছর লেগে যায়। নার্সিং পাশ করা ছেলে মেয়েরা বর্তমানে চাকুরির জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। সরকারি চাকুরির জন্য পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু পরীক্ষা নেওয়ার পূর্বে ঠিক হয়ে যায় কারা কারা পরীক্ষায় পাশ করবে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেন, ত্রিপুরা রাজ্যে মেধা মার খাচ্ছে। কারণ ত্রিপুরা রাজ্যে বহু বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি ৩৪০ টি বিদ্যালয় আছে যেখানে একজন শিক্ষক আছে।
বাড়িতে কাজ করতে আসা দিনমজুররা দৈনিক ৬৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত নেই। অথচ নেট, স্লেট পাশ করা শিক্ষিত যুবকরা বিভিন্ন সরকারি কলেজগুলোতে ফ্যাকাল্টি হিসেবে কাজ করে ৫০০ টাকা করে দৈনিক পায়। মাস শেষে দেখা যায় তাদের কাছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকাও থাকে না। তাও সেই টাকা প্রতি মাসে তারা পায় না। তিন চার মাস পর পর বকেয়া টাকা পায়। এমনকি অষ্টম শ্রেণীর উত্তীর্ণ ছেলেমেয়েরা ত্রিপুরা পুলিশকে এবং টি এস আর -এ রেগুলার স্কেলে চাকরি পাচ্ছে, অথচ মাস্টার ডিগ্রি করা বিটেক, এমটেক করা যুবক-যুবতীরা আউটসোর্সিং এর চাকরি করছে। এই যুবক-যুবতীরা ঠিকাদারেরা অধীনে। আর সেই ঠিকাদারের যোগ্যতা নন মেট্রিক, কিন্তু কাজ আছে টাকা আছে এবং সরকারের আশীর্বাদ আছে বলে টেন্ডার পেয়েছেন। আর এই আউটসোর্সিং এর মালিক সরকার থেকে ১৫-১৬ হাজার টাকা মাথাপিছু কর্মীর জন্য এনে মাত্র সাত থেকে আট হাজার টাকা দিয়ে প্রতি মাসে বিভিন্ন দপ্তরে কাজ পরিচালনা করছেন। বাকি টাকাটা আউটসোর্সিং এর মালিকের কমিশন। এ ধরনের মিডেল ম্যান করে আউটসোর্সিং এর মালিকদের কেন টাকা পাইয়ে দিচ্ছে প্রশ্ন করলেন তিনি? মোদী সাহেব, অমিত শাহ- এ দো গুজরাটি দেশকো বেচ রাহা হে। আদানি আম্বানি – এ ভি দো গুজরাটি হে, দেশকো খারিদ রাহা হে। বেচনে ওয়ালেদি দো গুজরাটি, খরিদনেবালেভি দো গুজরাতি হে। তারা দেশের মধ্যে আর্থিক বৈষম্যতা বাড়িয়ে চলেছে। এটা দূর করতে কংগ্রেস লড়াই করছে। তিনি বর্তমান সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে আরো বলেন, ভারত বর্ষ যখন স্বাধীন প্রাপ্তির জন্য এগোচ্ছিল তখন দেশ জুড়ে হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা লাগিয়েছিল আরএসএস। আর আজকে দেশ বিভাজনের নামে কংগ্রেসের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে তারা। এবং তারা চাইছে ইতিহাসকে বিকৃত করে, ইতিহাসকে নতুন করে রচনা করার চেষ্টা করছে। আর বলেন দেশের বেকারত্ব নিয়ে কোন কথা নেই বর্তমান সরকারের। কিভাবে দেশকে ধর্মের নামে বিভাজন করা যায় সেই চেষ্টা করছে বিজেপি এবং তাদের সহযোগিরা একটা মিথ্যাচারী কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন সুদীপ রায় বর্মন।

