Wednesday, February 4, 2026
বাড়িরাজ্যজমি সংক্রান্ত ঝামেলায় রক্তাক্ত হয়ে বাড়ি ছাড়া এক পরিবার, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করছে...

জমি সংক্রান্ত ঝামেলায় রক্তাক্ত হয়ে বাড়ি ছাড়া এক পরিবার, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৪ অক্টোবর :উত্তর ত্রিপুরা জেলার উত্তর পদ্মবিল গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিবাদ ঘিরে রীতিমতো রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনা সংগঠিত হয়। ঘটনা গত ২৮ সেপ্টেম্বর। ঘটনাটি সামনে আসে শনিবার।

 অভিযোগ, আপন ছোট দুই ভাইয়ের হাতে আক্রান্ত হন বড় ভাই ছপর উদ্দিনের স্ত্রী, কন্যা ও পুত্র সন্তান। ছপর উদ্দিনের অনুপস্থিতিতে তার দুই ভাই বসর উদ্দিন ও নিজাম উদ্দিন হঠাৎই বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। প্রাথমিক অজুহাত ছিল ছপর উদ্দিনের ছাগল নাকি তাদের সবজি খেয়েছে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় মারধর।

 আক্রান্ত হন ছপর উদ্দিনের স্ত্রী জরিনা বেগম, উনার মেয়ে এবং মাত্র সাত বছরের পুত্র আব্দুল সেলিম। কাঠ, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালানো এই আক্রমণ। গুরুতর আহত হন তিনজনই। রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের প্রথমে উপথাখালি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়।

জানা গেছে, নাবালক ছেলে আব্দুল সেলিম চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও নাবালিকা মেয়ে দিলোয়ারা বেগমের মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। ফলে তিনি এখন পুরোপুরি শয্যাশায়ী। অন্যদিকে, জরিনা বেগমের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগার পাশাপাশি হাতও ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনিও শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছেন। এখন অর্থের অভাবে অসহায় স্বামী ছপর উদ্দিন চিকিৎসা করাতে পারছেন না। অভিযোগ, ঘটনার নেপথ্যে আসল কারণ জমি-সম্পত্তি দখলের পরিকল্পনা। ইতিমধ্যে ছপর উদ্দিন পানিসাগর থানায় প্রাণঘাতী হামলার মামলা রুজু করেছেন। কিন্তু, মামলার পরও এখনো কোনো ন্যায়বিচার পাননি তিনি। উল্টো অভিযুক্তরা মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে ভয়ে ছপর উদ্দিন বাগবাসার শনিছড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। শনিবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন তিনি যাতে বিচার পায় এবং আর্থিক সহযোগিতা পায় তার জন্য ব্যবস্থা নিতে। তবে পুলিশের ভূমিকায় স্পষ্ট দুর্বৃত্ত বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে পুলিশ বিষয়টি রফাদফা করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। না হলে ঘটনার এতদিন পরেও কেন পুলিশ দুর্বৃত্তদের জালে তুলতে দ্বিধাবোধ করছে। পানিসাগর থানার পুলিশের এহেন ভূমিকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য