স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর : দুর্গাপূজায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়ার জন্য পর্যালোচনামূলক বৈঠকে বসলেন দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ। বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ এই ভার্চুয়াল মিটিং – এ বিদ্যুৎ নিগমের এমডি, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর, জিএম, জিএম, ডিজিএম ও সিনিয়র ম্যানেজারদের উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সমস্ত আধিকারিকদের সঙ্গে প্রস্তুতির পর্যালোচনার জন্য বৈঠক হয়।
১৬ টি বিদ্যুৎ বিভাগ ও ৭৯ টি সাব-ডিভিশনের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বৈঠক করা হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—ট্রান্সফরমারগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে, গাড়ি ও কর্মীদের প্রস্তুত রাখতে হবে। অতিরিক্ত সংস্থাও মোতায়েন করা হবে এবং ১৯১২ নম্বর হেল্পলাইনকে সর্বদা সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, মনারচক থেকে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট, রুখিয়া থেকে ১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, এবং মিজোরাম থেকে অতিরিক্ত ৪০ মেগাওয়াট রিজার্ভে রাখা হয়েছে, যা পূজার সময় সরবরাহ করা হবে এবং ক্রিসমাসে ফেরত দেওয়া হবে। তিনি বলেন সব সাব-স্টেশন সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে। বিভাগীয় ও সিনিয়র ম্যানেজারদের মতামতও নেওয়া হয়েছে।
গত দুই বছর যেমন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়া হয়েছে, এ বছরও তার পুনরাবৃত্তি হবে বলে আমরা আশাবাদী। বড় পূজা মণ্ডপে আলাদা টিম মোতায়েন করা হবে। দুর্ঘটনা এড়াতে সবরকম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ১লা সেপ্টেম্বর বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৩৭৬ মেগাওয়াট, আর গতকাল ছিল ৩২০ মেগাওয়াট। দুর্গাপূজায় ২০২২ সালে ছিল ৩৩২ মেগাওয়াট, ২০২৩ সালে ৩১১ মেগাওয়াট, ২০২৪ সালে ৩১২ মেগাওয়াট, আর এ বছর প্রত্যাশা প্রায় ৩৮০ মেগাওয়াট। মন্ত্রী আরও বলেন গত বছর রাজ্যে প্রায় ৩,৫০০টি পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবছরও সবগুলো অস্থায়ী সংযোগের জন্য আবেদন পড়েছে এবং আগামীকালই তা দেওয়া হবে। প্রতিটি বিদ্যুৎ বিভাগ ও সাব-ডিভিশন স্তরে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। এখন দেখার বিষয় দুর্গাপূজায় কতটা বিদ্যুৎ পরিষেবা সঠিকভাবে প্রদান করতে পারে নিগম কর্তৃপক্ষ। নাকি বিগত দিনের মতোই ব্যর্থতার পরিচয় দেয় দুর্গাপূজায়! আর এই ব্যর্থতার অভিযোগ রীতিমতই সাধারণ নাগরিকদের মুখ থেকে উঠে আসে।

