স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ১৮ সেপ্টেম্বর : শ্বশুরবাড়ি থেকে এক বিধবা গৃহবধূ ও তার পুত্র সন্তানকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ। মোটা অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে নেওয়া হয়েছে শাসক দলের মন্ডল কমিটিকে। মন্ডলের ভয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে নতুন বাজার থানার পুলিশ বলে অভিযোগ। বাড়িতে অট্টালিকা তৈরি করলেও একমাত্র পুত্রবধূ ও নাতির জন্য বাড়িতে জায়গা নেই।
এমনই ফতোয়া জারি করেছেন নতুন বাজারের প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার পরেশ শীল। বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তার একমাত্র পুত্রবধূ ও নাতিকে গত এক মাস আগে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। একমাস ৬ দিন পর আজ বাড়িতে আসলে ঘরের দরজা খুলছেন না অভিযুক্ত শ্বশুর-শাশুড়ি। চার বছর আগে পরেশ শীলের একমাত্র পুত্র কৃষ্ণ শীল অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে পুত্রবধূকে বাড়ি থেকে তাড়ানো চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। এদিকে শ্বশুর পরেশ শীল জানান, মন্ডলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একমাত্র পুত্রবধূকে ঘর ভাড়া ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো অসহায় বিধবা গৃহবধূটির বিরুদ্ধে শাসকদলের মন্ডল কমিটি কেন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে? কেন একজন অসহায় মহিলাকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ঘর ভাড়া থাকতে বাধ্য করল শাসকদলের মন্ডল কমিটি? এখন কোথায় ত্রিপুরা মহিলা কমিশন? অসহায় গৃহবধূটির শ্বশুর পরেশ শীল একজন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার হওয়ায় উনার টাকার কাছে কি সবাই বিক্রি হয়ে গেল? এসব প্রশ্নগুলি ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষের মনে।
এদিকে মন্ডলের কথা শুনে রাষ্ট্রপতি কালার্স প্রাপ্ত ত্রিপুরা পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে আছে বলে অভিযোগ। অসহায় মহিলাটি তার প্রাপ্য অধিকারের জন্য পুলিশের দ্বারস্থ হলেও মন্ডলের সামনে রাজ্য পুলিশ যে অসহায় তা আবারও প্রমাণিত হলো। নতুন বাজার থানার পুলিশ অভিযুক্ত শ্বশুর বাড়ির লোকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে অসহায় ওই মহিলাকে জানিয়ে দেয় আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে মন্ডল কি সিদ্ধান্ত নেয় সেটা দেখার জন্য। এখন দেখার শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়া বিধবা ওই গৃহবধূটি তার প্রাপ্য অধিকার পায় কিনা?

