Thursday, February 5, 2026
বাড়িখেলাট্রফি, প্রতিশোধ, শীর্ষস্থান, দাপুটে জয়ে সব পেলেন আলকারাস

ট্রফি, প্রতিশোধ, শীর্ষস্থান, দাপুটে জয়ে সব পেলেন আলকারাস

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ৮ সেপ্টেম্বর।। আগের দিনের মতো বৃষ্টির বাগড়া ছিল না। যদিও আকাশ ছিল কিছুটা ধূসর, কিন্তু ছিল না বজ্রপাতের শঙ্কা। তবু দেখা গেল বিদ্যুচ্চমক। তবে সেটি আকাশে নয়, আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামের কোর্টে। কার্লোস আলকারাসের র‌্যাকেটে দেখা গেল যেন আগুনের ঝলকানি। তাতে ছারখার হয়ে গেল ইয়ানিক সিনারের সব প্রচেষ্টা। সময়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় টেনিস লড়াইয়ে দাপুটে জয়ে আলকারাস জানান দিলেন আপাতত তার শ্রেষ্ঠত্ব। ইউএস ওপেনের ফাইনালে ইতালির সিনারকে ৬-২, ৩-৬, ৬-১, ৬-৪ গেমে হারিয়ে শিরোপা জিতলেন স্পেনের আলকারাস। ট্রফি আর প্রাইজমানির সঙ্গে আলকারাসের প্রাপ্তি আরও অনেক কিছু। গত জুলাইয়ে উইম্বলডনের ফাইনালে এই সিনারের কাছে হেরেছিলেন তিনি। সেটির মধুর প্রতিশোধ নেওয়া হলো। পাশাপাশি এই জয়ে নিশ্চিত হয়ে গেল, সিনারকে সরিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর জায়গাও ফিরে পাচ্ছেন তিনি।

তুমুল আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা ফাইনালে যথারীতি গ্যালারিতে ছিল নানা আঙিনার তারকাদের ভীড়। সেখানে সবচেয়ে আলোচিত নামটি অবশ্য ডনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট খেলা দেখতে আসায় এদিন নিরাপত্তা তল্লাসির ছিল কড়াকড়ি। দর্শকদের লাইন তাই অনেক লম্বা হয়ে যায়। অনেককেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় এক ঘণ্টার বেশি সময়। খেলাও তাতে একটু দেরিতে শুরু হয়। তার পরও স্থানীয় সময় দুপুর ৩টার একটু আগে খেলার শুরুর সময় অনেক আসন ছিল খালি। কারণ, তখনও অনেকে ঢুকতে পারেননি স্টেডিয়ামে। গ্যালারি থেকে ট্রাম্পকে উল্লাসে স্বাগত জানান অনেকে, অনেকই আবার দুয়ো দেন। খেলা শুরুর পর অবশ্য সব মনোযোগ কেড়ে নেন আলকারাস। সিনার প্রথম সার্ভ করলেও প্রথম গেম দারুণভাবে জিতে নেন আলকারাস। প্রথম সেটও জিতে নেন দাপটে। পরের সেটে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ান সিনার। টুর্নামেন্টে প্রথম সেট হারেন আলকারাস। তাতে যেন আরও চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় কোর্টে নামেন তিনি। পরের দুই সেটে আর পাত্তাই পাননি সিনার। জয়ের পর খ্যাপাটে উল্লাসে মেতে ওঠেন আলকারাস। র‌্যাকেটকে গল্ফ ক্লাব বানিয়ে গলফ সুইংয়ের মতো সেই চেনা উদাপন দেখিয়েও তিনি মাতিয়ে তোলেন গ্যালারি।

ম্যাচের পর তার প্রতিক্রিয়ার শুরুতেই থাকল প্রবল প্রতিদ্বন্বী সিনারের প্রশংসা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন তিনি নিজের কোচিং স্টাফদের প্রতিও। “শুরু কতে চাই ইয়ানিককে দিয়ে, গোটা মৌসুমে যা করেছো, প্রতিটি আসরে যে পর্যায়ের টেনিস খেলেছো, তা অবিশ্বাস্য। তোমাকে এখন পরিবারের চেয়েও আপন করে দেখি…।তোমার সঙ্গে কোর্টে নামা, লকার রুমে থামা, সবকিছুই ভাগাভাগি করতে পারা দারুণ।”

“আমার আশেপাশে থাকা মানুষগুলোকে নিয়েও গর্বিত আমি। আমার প্রতিটি অর্জন তোমারে কারণেই… এই শিরোপাও তোমাদের।” ইউওস ওপেনে আলকারাসের দ্বিতীয় শিরোপা এটি। ২০২২ এখানে প্রথম জিতে প্রথমবার এক নম্বরে উঠেছিল। এবার সেটির পুনরাবৃত্তি করতে পেরে উচ্ছ্বসিত ২২ বছর বয়সী তারকা। “বছরের প্রায় শুরুতেই লক্ষ্য ঠিক করেছিলাম যে, এক নম্বর হতে চাই। সেটি অর্জন করতে দেখাটা অবিশ্বাস্য। আরও একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের দিনেই সেটি করতে পারাটা আরও বেশি ভালো।” “অসাধারণ দুটি সপ্তাহ গেল এখানে। টেনিসের দিক থেকে তো খুবই উঁচু মানের ছিলই, তবে সবকিছুর ওপরে ছিল মানসিক দিক থেকে, যেটি নিয়ে আমি খুবই গর্বিত।” এখানে তিন বছর আগে পাওয়া শিরোপার চেয়ে এখনকার তিনি কতটা বদলে গেছেন, সেটিও তুলে ধরলেন অকপটে।

“এখানে প্রথম শিরোপাটি ছিল আমার তারুণ্যের ঝলক, এবারের শিরোপা পরিণত মানসিকতার। আস্তে আস্তে বেড়ে উঠছিল। এখন আরও ভালো করে জানি কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে সাড়া দিতে হয়।” এবার ফরাসি ওপেনের ফাইনালে সিনারকে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিলেন আলকারাস। তবে উইম্বলডনে হয় উল্টোটা। সেই ফাইনালে হারার পরই নিজের সঙ্গে একটা বোঝাপড়া করেছিলেন আলকারাস। “উইম্বডলনের ফাইনালের পরই মনে হয়েছিল, তাকে হারাতে হলে আমাকে আরও উন্নতি করতে হবে। যদি ইউএস ওপেন জিততে চাই, যদি ইয়ানিককে হারাতে চাই, আমাকে নিখুঁত খেলতে হবে।” “আমার মনে হয়েছে, আমার জীবনে সবচেয়ে ভালো খেলেছি এই টুর্নামেন্টেই। পুরো টুর্নামেন্টে আমার ধারাবাহিকতার পর্যায় ছিল দুর্দান্ত, যা নিয়ে আমি খুবই গর্বিত।”

ইউএস ওপেন দিয়ে টানা ১৩ জয় আর বছরের সপ্তম শিরোপায় ছূটে চলেছেন আলকারাস। তার গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি হলো এখন ছয়টি। ইউএস ওপেনের মতো ফরাসি ওপেন ও উইম্বলডনেও জিতেছেন দুটি করে। তবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে কোয়ার্টার ফাইনাল পার হতে পারেননি এখনও। তবে সেই ট্রফিও যে একদিন উঁচিয়ে ধরবেন, প্রত্যয় ফুটে উঠল তার কণ্ঠে। “এটা আমার প্রথম লক্ষ্য, ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করা। এটা সবসময়ই আমার ভাবনায় আছে। আগামী বছরই এটা পূরণ করার চেষ্টা করব। আগামী বছর না হলে পরের বছর, তখনও না হলে দুই বছর, তিন বছর, চার বছর পর। যখনই হোক, এটা করতে চাই।” এ বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও উইম্বলডন জিতলেও এই ফাইনালে হারার পর হতাশ ও বিধ্বস্ত সিনারের কণ্ঠে ছিল অসহায়ত্ব। “অনেক বড় পর্যায়ে ও বড় ম্যাচে আমরা দুজন লড়েছি এই মৌসুমে। তবে আজকে নিজের সেরাটা দিয়েই চেষ্টা করেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু আর করার ছিল না আমার।”

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য