স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ০৭ সেপ্টেম্বর ।। যুদ্ধে লাগাম টানা দূর অস্ত। তিনবছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষে আকাশপথে সবচেয়ে বড় হামলা চালাল রাশিয়া। রবিবার ইউক্রেনের সচিবালয়-সহ রাজধানী কিয়েভের একাধিক জায়গায় ড্রোন এবং মিসাইল হামলা চালায় মস্কো। এই আক্রমণের জেরে দাউ দাউ করে জ্বলছে ইউক্রেনের সচিবালয়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে গোটা আকাশ। অন্যদিকে, রাশিয়ার এই হামলার পালটা দিয়েছে কিয়েভ। রাশিয়ার ব্রায়ানস্ক এলাকার দ্রুজবা তেলের পাইপলাইন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের সেনা।
ইউক্রেনের তরফে জানানো হয়েছে, শনিবার রাত থেকে ৮০৫টি ড্রোন এবং বেশ কয়েকটি মিশাইল নিয়ে রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন প্রান্তে হামলা চালায় রুশ সেনা। রবিবার সকালে আক্রমণ করা হয় সচিবালয়ে। যার জেরে আগুনের গ্রাসে চলে গিয়েছে গোটা ভবন। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। তাঁদের মধ্যে রয়েছে এক বছরের এক শিশু। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিডেনকো বলেন, “এই প্রথম কোনও প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালাল শত্রু পক্ষ।” প্রবল বৈশ্বিক চাপের মুখে পড়ে শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে মস্কোয় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে সে আমন্ত্রণ পত্রপাঠ খারিজ করে দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। উলটে রুশ প্রেসিডেন্টকে কিয়েভে আসার বার্তা দিলেন জেলেনস্কি। ঘটনাচক্রে তারপরই ইউক্রেনের বুকে বড়সড় হামলা চালাল রাশিয়া।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। তারপর থেকে একাধিক উদ্যোগ সত্ত্বেও মুখোমুখি বসে যুদ্ধ থামানো নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হননি দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। সম্প্রতি আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ঘণ্টা তিনেকের আলোচনার পরেও রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে কোনও সমাধান মেলেনি। এই বৈঠকে পুতিন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যুদ্ধবিরতি করতে হলে দোনেৎস্ক অঞ্চল ছাড়তে হবে ইউক্রেনকে। যা দিতে অস্বীকার করে ইউক্রেন। এরই মাঝে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দুই রাষ্ট্রপ্রধানকে মুখোমুখি বসিয়ে আলোচনায় উদ্যোগী তিনি। কিন্তু সেটিও সম্ভব হয়নি এখনও। এই পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনায় জেলেনস্কিকে মস্কোয় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিন্তু তা পত্রপাঠ খারিজ করে দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তারপরই সেদেশে বড়সড় হামলা চালাল রাশিয়া।

