স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ৪ সেপ্টেম্বর।। ভারতের উত্তরাঞ্চল জুড়ে বন্যা বুধবারেই অন্তত ৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ওই এলাকা আরও বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের আশঙ্কাও করছেন তারা। বন্যার কারণে কেবল রাজধানী দিল্লির নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো থেকে প্রায় ১০ হাজার লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এবারের বর্ষা মৌসুম বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে এসেছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলে কেবল অগাস্টেই বৃষ্টি, বন্যা, ভূমিধসে অন্তত ১৩০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। অনেক গ্রাম তলিয়ে গেছে, ধ্বংস হয়ে বহু স্থাপনা। বন্যা সর্বশেষ আঘাত হেনেছে জম্মু ও কাশ্মীরের উত্তরাংশ, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও পাঞ্জাবে। চেনাব ও টাওয়ি নদীর পানি বেশ কয়েক জায়গায় বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। নদীগুলোর পানি উপচে পড়ার কারণে অনেক এলাকায় ভূমিধস দেখা দিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য সড়ক; পাহাড়ি অঞ্চল জম্মু ও হিমাচলের অনেক এলাকা দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জম্মুর রাজৌরি ও মান্ডি এবং হিমাচল প্রদেশে ভূমিধসে বুধবার ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জম্মু-কাশ্মীর ও হিমাচলে বুধবারও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে। উত্তরাখণ্ড ও উত্তর প্রদেশেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। এদিকে ভারতের কেন্দ্রী নদীয় কমিশন জানিয়েছে, স্ফীত যমুনা নদী মঙ্গলবার দিল্লিতে বিপদসীমা পেরিয়েছে। নিচু এলাকায় বসবাসরতদের জন্য সরকার আগেই প্রধান প্রধান সড়ক সংশ্লিষ্ট জায়গায় আশ্রয় শিবির বানিয়ে রেখেছিল, এরই মধ্যে সেসব আশ্রয় শিবিরে প্রায় ১০,০০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। ২০২৩ সালেও দিল্লির যমুনা সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বন্যার পানি অনেকের বাড়ি ঢুকে যাওয়ার পর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেবার যমুনার পানি ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হিমাচল প্রদেশের অনেক পর্যটন কেন্দ্রেও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে কর্তৃপক্ষ বন্যা সতর্কতার কারণে লোকজনকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পার্শ্ববর্তী প্রদেশ পাঞ্জাবে অগাস্টের বৃষ্টি-বন্যায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজার লোককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যটির সরকার। বন্যা রাজ্যটির প্রায় দেড় লাখ হেক্টর জমির ফসলও নষ্ট করেছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে তারা।

