স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ১ সেপ্টেম্বর।। আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোববার মধ্যরাতে এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নানগারহার প্রদেশের রাজধানী ও আফগানিস্তানের পঞ্চম বৃহত্তম শহর জালালাবাদ থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে। কর্তৃপক্ষের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, ১১৫ জনের বেশি মানুষকে আহত অবস্থায় নানগারহার ও কুনার প্রদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২০ জনের। আর তালেবান সরকারের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, এ ভূমিকম্পে বহু ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে কয়েকশ মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, রোববার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৮ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের পর অন্তত তিনটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যার মাত্রা ছিল ৪.৫ থেকে ৫.২ এর মধ্যে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে রাজধানী কাবুল এবং ৪০০ কিলোমিটার দূরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও কয়েক সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়। বিবিসি লিখেছে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলো দুর্গম ও পার্বত্য অঞ্চল হওয়ায় সেখানে যাতায়াত কঠিন। বেশিরভাগ ঘরবাড়ি ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নয়। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী কুনার প্রদেশের নোরগাল জেলার মাজার উপত্যকার বেশিরভাগ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপত্যকাটি পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত, সেখানে উদ্ধারকাজ চালানোও অনেক কঠিন। উএসজিএস বলছে, এ ভূমিকম্পে শত শত মানুষের প্রাণহানি হতে পারে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মডেল অনুযায়ী, গুরুতর হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে এবং এ দুর্যোগের ব্যাপকতা অনেক বেশি হতে পারে। বিবিসি লিখেছে, নানগারহার প্রদেশ ভয়াবহ বন্যার ধকল সামলে ওঠার আগেই এ ভূমিকম্পের কবলে পড়ল। গত শুক্র ও শনিবারের ওই বন্যায় বহু সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে অন্তত পাঁচজনের। আফগানিস্তানের অবস্থান ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে। ভূগাঠনিক চ্যুতির কারণে সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ হেরাতে ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছিলেন।

