স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১১ সেপ্টেম্বর : শুক্রবার এক অনুষ্ঠানের
মধ্যদিয়ে রাজধানীর এন.এস.আর.সি.সি কমপ্লেক্সে স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষ চন্দ্র
বসুর মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। পাশাপাশি সেখানে
আয়োজিত রক্তদান শিবিরেরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা বলেন রক্তদান মনে হয় ছোট কাজ। এই ছোট কাজের ফলে তিনটি
প্রান বাঁচতে পাড়ে। কাজেই এই ছোট কাজ ছোট কাজ নয়। রক্তদান মহৎ দান। রক্তের কোন জাতপাত
ধর্ম নেই।
রক্তের কোন বিকল্পও নেই। রক্তের চাহিদা একমাত্র রক্ত
দিয়ে পূরণ করা সম্ভব। রক্তদান মানবিকতার একটা অনন্য নিদর্শন। ব্লাড ব্যাঙ্কে যেন রক্তের
সঙ্কট না হয় তার জন্য রক্তদান শিবির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী যুব সমাজের
প্রতি আহ্বান জানান নিয়মিত রক্তদান করার জন্য। রক্তদান ত্রিপুরা রাজ্যে একটি সাংস্কৃতিক
রুপ নিয়েছে। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সীরা রক্তদান করতে পারে। নিয়মিত যারা রক্তদান করে তারা
৬৫ বছর পর্যন্ত রক্তদান করতে পারে। ত্রিপুরা রাজ্যে বর্তমানে ব্লাড সেল সেপারেশনের
ব্যবস্থা রয়েছে। রক্তের চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ত্রিপুরা
রাজ্য রক্ত সঞ্চালন পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।
প্রতি বছর
ত্রিপুরা রাজ্যে প্রায় ৪০ হাজার ইউনিট রক্তের প্রয়োজন। খেলা ধুলার পাশাপাশি সামাজিক
কাজের সাথে যুক্ত থাকতে হবে। তাহলে এক ত্রিপুরা নতুন ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়া
সম্ভব হবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষ
চন্দ্র বসুর আদর্শকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা সবচেয়ে বড় বিষয়। স্বামী বিবেকানন্দ
ও নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু এই দুই মাহান ব্যক্তির মধ্যে একজন দেশ প্রেমী ছিলেন এবং
অপরজন মানব সেবার জন্য পরিচিত। এই দুই মহান ব্যক্তির মূর্তি প্রতিস্থাপনের মধ্যদিয়ে
দেশ প্রেম ও মানব সেবাকে এক করা হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি এই দুই মহান
ব্যক্তির আত্ম জীবনী তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এইদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও
উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া
দপ্তরের সচিব তাপস রায়, দপ্তরের অধিকর্তা এল ডার্লং, পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত দীপা
কর্মকার, ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের সচিব সুকান্ত ঘোষ সহ অন্যান্যরা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান