বাড়িখেলাস্পেনের বিশ্বজয়, অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে ১-০ ব্যবধানে হারল আর্জেন্টিনা

স্পেনের বিশ্বজয়, অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে ১-০ ব্যবধানে হারল আর্জেন্টিনা

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২০ জুলাই : লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলেই নিজেদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্প্যানিশরা। এর আগে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় ম্যাচের শেষ ভাগে আরও চাপে পড়ে যায়।

শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে ছিল নিজেদের ছায়া হয়ে। ম্যাচের ১১৬তম মিনিট পর্যন্ত তারা প্রতিপক্ষের গোলে কোনো শটই নিতে পারেনি। ফলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় দল হওয়ার স্বপ্নও অধরাই থেকে যায়।

এর মধ্য দিয়েই ৩৯ বছর বয়সে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ে শেষ হলো লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ অধ্যায়।

অন্যদিকে, স্পেন এই শিরোপার পুরোপুরি যোগ্য দাবিদার। শুধু ফাইনালেই নয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তারা ছিল সবচেয়ে ধারাবাহিক ও আধিপত্য বিস্তারকারী দল। শেষ পর্যন্ত সেরার মুকুট যে সঠিক দলের মাথাতেই উঠেছে, তা নিয়ে তেমন কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই।

অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল স্পেন। ২০১০ সালের পর এটাই স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।

ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় স্পেন। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে তারা মোট ১২টি শট লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে, গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত একটিও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।

তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে স্পেনকে হতাশ করেন। তিনি মোট ১১টি সেভ করে বিশ্বকাপ ফাইনালের নতুন রেকর্ড গড়েন। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে পাওয়া বল জোরালো শটে জালে জড়িয়ে দেন ফেরান তোরেস। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে।

এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেল আর্জেন্টিনার। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল টানা দুইবার বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন ২০১০ সালের বিশ্বজয়ী স্পেন দলের একাধিক সদস্যও, যারা নতুন প্রজন্মের এই সাফল্যের সাক্ষী থাকেন।

অতিরিক্ত সময়ে পাল্টা আক্রমণে ফেরান তোরেস আরও একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা প্রথমবারের মতো দুটি বিপজ্জনক আক্রমণ শানালেও সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হয়।

ম্যাচের শেষ ৩০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে। মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। স্পেনের পাউ কুবারসির ওপর কঠোর ট্যাকলের জন্য তাকে বহিষ্কার করেন রেফারি।

আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচেই স্পেনের বল দখলের আধিপত্যের সামনে অসহায় ছিল। দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি ৫৪ বার বল স্পর্শ করলেও মাত্র একটি শট নিতে সক্ষম হন। শেষ পর্যন্ত স্পেনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সামনে হার মেনে বিশ্বকাপ শিরোপা ছাড়তে হলো আর্জেন্টিনাকে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য