স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৮ আগস্ট : চিকিৎসককে ভগবান মানা হয়। কারন জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সর্ব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রয়োজন। কিন্তু একজন চিকিৎসকের গাফিলতিতে যে একটি প্রাণ অকালে ঝড়ে যেতে পারে তারই প্রমান অস্মি মজুমদারের মৃত্যু। শান্তিরবাজার মহকুমার চড়কবাই মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা অস্মি মজুমদার। বয়স ৯ বছর। গরীব মা-বাবার আদরের কন্যা। মেয়েকে লেখা পড়া শিখিয়ে উচ্চ শিক্ষিত করবেন এই স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে স্থানীয় ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন।
গরীব মা-বাবা কোনদিন ভাবতেও পারেন নি যে ওনাদের স্বপ্ন একদিন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। অস্মি মজুমদারের কাকা সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান সোমবার রাতের বেলা অস্মি ঘরে মোবাইল আনতে যায়। সেই সময় অস্মির পায়ে বিষাক্ত কিছু কামড় দেয়। তবে কিসে কামড় দিয়েছে কেউই দেখতে পায় নি। অস্মির পরিবারের লোকজন কাল বিলম্ব না করে তাকে বাইখোরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রনদীপ ভৌমিক ভালো করে পরীক্ষা নিরিক্ষা না করে অস্মিকে প্রথমে তিনটি ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার পর অস্মিকে হাসপাতালে ৬ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বলেন। তারপর চিকিৎসক রনদীপ ভৌমিক কোয়ার্টারে চলে যান। এরই মধ্যে অস্মি মা-বাবাকে জানায় তার বুকে ব্যথা করছে। তখন অস্মির মা-বাবা ছুটে যায় চিকিৎসক রনদীপ ভৌমিকের কোয়ার্টারে। সাথে সাথে ডাক্তার রনদীপ ভৌমিক একটি গ্যাসের ঔষধ নিয়ে আসার জন্য লিখে দেন।
গ্যাসের ওষুধ খাওয়ানোর পর অস্মি হাসপাতালে ঘুমিয়ে পড়ে। তখন ডাক্তার রনদীপ ভৌমিক অস্মিকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে দেন। মা-বাবা অস্মিকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর লক্ষ্য করে অস্মির শরীরের বর্ণ ক্রমশ পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। সাথে সাথে তারা পুনঃরায় অস্মিকে বাইখোরা প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। তখন ডাক্তার রনদীপ ভৌমিক অস্মিকে রেফার করে দেন শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে। শান্তির বাজার জেলা হাসপাতালে রোগীকে রেফার করে দীর্ঘ এক ঘন্টা কাটল অ্যাম্বুলেন্স চালকের অপেক্ষায়। হাসপাতাল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বাড়িতে গিয়েছিলেন অ্যাম্বুলেন্স চালক। দীর্ঘক্ষণ পর হাসপাতালে ছুটে আসেন তিনি। পরে নিয়ে আসা হয় জেলা হাসপাতালে। শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক অস্মির রক্ত পরীক্ষা করার পর নিশ্চিত হন যে অস্মিকে সাপে কামড় দিয়েছে। জেলা হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক অস্মির মা-বাবাকে তখনই জানিয়েদেন অস্মির শরীরে সাপের বিষ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক বিলম্ব হয়ে গেছে অস্মিকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসতে।
তারপরও চিকিৎসক একটি ইনজেকশন দিয়ে অস্মিকে জিবি হাসপাতালে রেফার করে দেন। জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর অস্মি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। অস্মির কাকার অভিযোগ বাইখোরা প্রাথমিক হাসপাতালের ডাক্তার রনদীপ ভৌমিকের গাফিলতির কারনে অস্মির মৃত্যু হয়েছে। একটা সময় বাইখোরা প্রাথমিক হাসপাতালের সুনাম অন্য জায়গায় পৌঁছে দেন ডাক্তার শুভ্রজ্যোতি মজুমদার। ডাক্তার শুভ্রজ্যোতি মজুমদার নিরলস ভাবে এলাকার মানুষকে পরিষেবা দিয়ে গেছেন। যার কারনে মানুষের আস্তা তৈরি হয়ে বাইখোরা হাসপাতালের প্রতি। কিন্তু ডাক্তার শুভ্রজ্যোতি মজুমদারের উত্তরসূরি ডাক্তার রনদীপ ভৌমিকের কারনে বর্তমানে বাইখোরা হাসপাতালের উপর মানুষ ক্রমশ আস্তা হারিয়ে ফেলছে। অস্মি মজুমদারের মৃত্যুর পর বাইখোরা হাসপাতালের উপর মানুষ আরও আস্তা হারিয়ে ফেলবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এইদিকে অস্মির মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তাঁর মা-বাবা। কারন মেয়েকে নিয়ে তাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। অস্মির মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

