স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৭ আগস্ট : রাজ্যে চলছে সুশাসন। আর সুশাসনকে কালমা লিপ্ত করে চলছে এক থালায় বসে খাওয়া দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার রাতের বেলা যাত্রীবাহী বাসে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন বলে এক মহিলা যাত্রী অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত হওয়ায় স্বাভাবিক। কিন্তু গাড়িটি বিশ্রামগঞ্জ এলাকায় পৌঁছাতেই দূর্বৃত্তরা গাড়িতে উঠে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে না পেয়ে গাড়ি চালক, সহ চালক সহ অন্যান্য যাত্রীদের বেধড়ক মারধর করে।
পরবর্তী সময় এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে পুলিশের সামনেই অন্যান্য গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। সূত্রে খবর, জেলা পুলিশ সুপার এবং বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি কাঠপুতুল সেজে প্রশ্রয় দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি খাকি উদ্দিধারী পুলিশ। শেষ পর্যন্ত ডিআইজি -র উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তারপর এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করে দায়িত্ব খালাস করে দেয় পুলিশ প্রশাসন। প্রায় ৪৮ ঘন্টা হতে চলেছে এখন পর্যন্ত দুর্বৃত্ত বাহিনীর কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। কিন্তু ঘটনার পরের দিন বুধবার থেকেই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। বুধবার সোনামুড়া – আগরতলা যাত্রীবাহী বাস পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। অবশেষে সেন্টিগ্রেডের নেতাদের আশ্বাসে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হয়।
এদিন বিশ্রামগঞ্জ থানায় গিয়ে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে চারটি মামলা করেন সিপাহী জলা বাস জীপ চালক সংঘ, বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, আগরতলা – সোনামুড়া বাস সেন্টিগ্রেডের নেতৃত্ব ও গাড়ির মালিক গৌতম সাহা। বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা এবং বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসির কাছে একটি ডেপুটেশন দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানান সিপাহী জলা বাস জীপ চালক সংঘের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব মজুমদার। তিনি জানান ৭২ ঘন্টা অপেক্ষা করবে পরিবহন শ্রমিকরা। যারা সেদিন গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ছিল তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে তারা বাধ্য হবে। এখন দেখার বিষয় শ্রমিক সংগঠনের দাবি অনুযায়ী অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয় কিনা।

