Thursday, August 6, 2026
বাড়ি রাজ্য স্বাধীনতার পর ভারত বর্ষে তিনবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা হয়েছিল, কিন্তু যুদ্ধ নয় শান্তির মধ্যে দিয়ে মীমাংসা দাবি করেছে কমিউনিস্ট : মানিক সরকার

স্বাধীনতার পর ভারত বর্ষে তিনবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা হয়েছিল, কিন্তু যুদ্ধ নয় শান্তির মধ্যে দিয়ে মীমাংসা দাবি করেছে কমিউনিস্ট : মানিক সরকার

স্বাধীনতার পর ভারত বর্ষে তিনবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা হয়েছিল, কিন্তু যুদ্ধ নয় শান্তির মধ্যে দিয়ে মীমাংসা দাবি করেছে কমিউনিস্ট : মানিক সরকার

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৩ জুলাই: বুধবার উদয়পুর রাজর্ষি প্রেক্ষাগৃহে সিপিআইএম উদয়পুর মহকুমার কমিটির উদ্যোগে দেশে অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা জারির ৫০ বছর ও নয়া ফ্যাসিবাদী বিপদ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রতন ভৌমিক, দলের উদয়পুর মহকুমা কমিটির সম্পাদক দিলীপ দত্ত সহ প্রমুখ।

 আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫শে জুন ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এটি ছিল দেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে সংবিধান স্থগিত করা হয়েছিল, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছিল। এই ঘটনাটি ভারতে ফ্যাসিবাদী শাসনের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমানে, বিশ্বে বিভিন্ন দেশে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান দেখা যাচ্ছে। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলি প্রায়ই গণতন্ত্রের দুর্বলতা এবং জনগণের মধ্যে বিভেদকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা দখল করে। নয়া ফ্যাসিবাদী বিপদ সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। জরুরি অবস্থার শিক্ষা থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মূল্যবোধকে রক্ষা করতে হবে। জরুরি অবস্থার থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

 গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আরো বলেন, দেশে স্বাধীনতার পর তিনবার জরুরি অবস্থা জারি করেছে। দেশে জহরলাল নেহেরু যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন ভারত এবং চীনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় সীমানা নিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। ঐক্যমতে আসতে পারছিলনা। তখন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে থেকে কেউ কেউ আহ্বান জানিয়েছিল বিরুদ্ধে না গিয়ে এবং শক্তির প্রয়োগ না করে উভয় রাষ্ট্রের নেতৃত্ব এবং পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র বসে একটি মীমাংসা করার চেস্টা করে।

 কিন্তু যারা এই আহ্বান করেছিলেন তাদের দেশদ্রোহী, রাষ্ট্রবিরোধী এবং চীনের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিল জহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বাধীন সরকার। সেই সময়ে তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টি একটা বড় অংশ এই দাবি উত্থাপনকারীদের তালিকা তুলে দিয়েছিলেন জহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বে। পাশাপাশি ভারত সরকার যখন শক্তি প্রদর্শন করার চেষ্টা করেছিল তখন চিনের সরকার রুখে দাড়িয়ে মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছে তখন ভারত তার অবস্থান থেকে সরে আসে। শেষ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে যুক্ত নয় মীমাংসা হয় বিষয়টি। এই ইতিহাস নতুন প্রজন্ম জানে না। এ বিষয়ে অবহিত করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha