Sunday, April 21, 2024
বাড়িরাজ্যপ্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ত্রিপুরার দ্রুত বিকাশ সাধিত হচ্ছে: মুখ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ত্রিপুরার দ্রুত বিকাশ সাধিত হচ্ছে: মুখ্যমন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৯ মার্চ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বার বার বলছেন উত্তর পূর্বাঞ্চল উন্নত না হলে ভারতবর্ষ কখনো উন্নত হবে না। অ্যাক্ট ইস্ট পলিসির মাধ্যমে উন্নয়ন কাকে বলে সেটা দেখতে পাচ্ছি আমরা। ত্রিপুরার সার্বিক উন্নয়নে হিরা মডেল উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ত্রিপুরার উন্নয়নের গতি দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।

          শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাব্রুমে সুসংহত স্থল বন্দর (আইসিপি) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। ত্রিপুরার জন্য আরো একটি ঐতিহাসিক দিন ৯ মার্চ, ২০২৪। এদিন পানীয় জল, বাণিজ্য ও ভ্রমণ পরিকাঠামো (স্থলবন্দর), শিক্ষা, সড়ক পরিকাঠামো ও সংযোগ খাতে ২৪৩৬.৪৮ কোটি টাকা মূল্যের ১১টি প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি সড়ক পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও শিল্প, নবায়নযোগ্য শক্তি, পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিকেন্ট সেক্টরে ৬০৯৭.৫৪ কোটি টাকা মূল্যের ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

              মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির উন্নয়নে খুবই আন্তরিক প্রধানমন্ত্রী। এজন্য আজ এই অঞ্চলের বিকাশের জন্য বেশকিছু প্রকল্প ঘোষণা করছেন তিনি। এর অংশ হিসেবে সিকিমে ৫০০ কোটি টাকা, নাগাল্যান্ডে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, মেঘালয়ে ৩০০ কোটি টাকা, মনিপুরে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং ত্রিপুরায় ৮ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রিপুরায় প্রকল্পের আর্থিক বরাদ্দ একেবারে সর্বোচ্চ। ২০১৮ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ধীরে ধীরে ত্রিপুরার চেহারা পাল্টে যাচ্ছে। এতদিন আমরা অপেক্ষায় রয়েছি কবে সাব্রুমের মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন হবে। যার মাধ্যমে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রবেশ দ্বার হয়ে উঠবে ত্রিপুরা। আজ সাব্রুমে আইসিপির উদ্বোধন হচ্ছে। খুব সহসাই মৈত্রী সেতুও খুলে যাবে। আখাউড়া ও নিশ্চিন্তপুরের পরে সাব্রুমের স্থল বন্দর অন্যতম বৃহত্তম হতে চলেছে। এর মাধ্যমে আগামীতে আসাম থেকে শুরু করে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি চিটাগাং বন্দর ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবসায়িক পরিধি বিস্তৃত করতে পারবে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দেশেও যোগাযোগ ব্যবস্থা (আসা যাওয়া) আরো সুগম হবে। আর সেটা সম্ভব হচ্ছে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য। তাঁর জন্যই আজ ত্রিপুরার দ্রুত বিকাশ সাধিত হচ্ছে।

                   অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজকের উদ্বোধন হওয়া প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রাজ্যের ইষ্ট দেবতা বলে কথিত মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরকে নবকলেবরে সাজানো। এসব কিছুই সম্ভব হচ্ছে বিকাশ পুরুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কারণে। এছাড়া যেসকল পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্যের জন্য এই বরাদ্দ হয়েছে তারমধ্যে রয়েছে – সাব্রুমের স্থল বন্দর গড়ে তোলার জন্য ২৫০ কোটি টাকা, ১.৪৬ লক্ষ গৃহস্থের জন্য টেপের মাধ্যমে পরিশ্রুত পানীয়জলের সংযোগ প্রদানের জন্য ব্যয় হবে ৭৩২.৯৮ কোটি টাকা। রূপাইছড়ি ও করবুকে একলব্য মডেল আবাসিক স্কুল ভবন তৈরি করার জন্য ব্যয় হবে ৪৮ কোটি টাকা। চারটি নতুন স্কুল ভবন নির্মাণের জন্য ব্যয় হবে ১০ কোটি টাকা। পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে ইকো ট্যুরিজমকে জনপ্রিয় করে তুলতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২.১৩ কোটি টাকা। জাতীয় সড়ক (এন এইচ) ২০৮ এ কৈলাশহর কুর্তি অংশে মোট ১১.৮০০ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়নে ব্যয় হবে ১৫৪.৫১ কোটি টাকা। জাতীয় সড়ক (এন এইচ) ৪৪ এ মনু লালছড়া অংশের ১৬.২৯ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়নে ব্যয় হবে ২৫১.৮৯ কোটি টাকা। জাতীয় সড়ক (এন এইচ) ৪৪ এ কাঞ্চনপুর ভাংমুন অংশে ২০.২৪৮ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়নে ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৪৭.৩৬ কোটি টাকা। জাতীয় সড়ক (এন এইচ) ১০৮৪ এ আগরতলা খোয়াই অংশের মোট ১২.৮০০ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়নে ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২১০.৫৪ কোটি টাকা। জাতীয় সড়ক (এন এইচ) ২০৮ এ ফুলতলি জুরিছড়া অংশের মোট ২০ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৮.২৪ কোটি টাকা। জাতীয় সড়ক (এন এইচ) ২০৮ এ কৈলাশহর কুর্তি অংশে মোট ১৩.৪৫০ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৮.৭৪ কোটি টাকা।

                       মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ত্রিপুরার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিক জনমুখী প্রকল্পের বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন। এরমধ্যে আগরতলা শহরের ওয়েস্টার্ন বাইপাসের চার লেনের উন্নতিকরনের মাধ্যমে এই রাস্তাকে এন এইচ ০৮ এর আমতলি থেকে এন এইচ ১০৮-বি এর লেম্বুছড়া পর্যন্ত রিং রোড গড়ে তোলার জন্য ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২,০২৬.০৫ কোটি টাকা। এছাড়াও চারটি রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৯০.০১ কোটি টাকা। আগরতলা সরকারি ডেন্টাল কলেজের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০২ কোটি টাকা। এজিএমসি ও জিবি হাসপাতালের ২০০ শয্যার মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের নির্মাণের জন্য ১৯২ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ ধার্য করা হয়েছে। সিপাহীজলাতে সংযুক্ত নেশামুক্ত ও পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য ১২১.৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগরতলার বুকে প্রধানমন্ত্রী একতা মল নির্মাণ করার জন্য ১৪০ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে। মাইক্রো গ্রিডের মাধ্যমে সোলার প্ল্যান্টে  জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় ২৭৪টি পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের জন্য ৪১.০২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগরতলা শহরের সন্নিকটে সেকেরকোটে নতুন ডিপো নির্মাণের জন্য ৬৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগে ধর্মনগর ডিপো থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তেল নিয়ে আসতে খরচ অনেক হয়ে যেতো। এখন সেকেরকোটে ডিপো চালু হলে অনেক খরচ কমে যাবে। জাতীয় সড়ক ২০৮ এ এর খোয়াই হরিণা অংশের দুই লেনের রাস্তার উন্নয়ন ও প্রশস্তিকরনে ২,৪৮৬.৭৭৯ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে।

                   মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, বিকশিত ভারত বিকশিত ত্রিপুরার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সমস্ত দেশকে একসূত্রে গাঁথার সদর্থক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি। যা আমরা এখন পরিলক্ষিত করছি। এধরনের একজন ব্যক্তিত্বকে আমরা নেতা ও অভিভাবক হিসেবে পেয়েছি। যার জন্য আমরা গর্ববোধ করি। দেশকে ক্রমশ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। জি – ২০ এর সময়ে দেশকে বিশ্বের সামনে এক উচুঁ মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন তিনি।

                 অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যগন সহ বিধায়কগন, জেলা পরিষদের সদস্যগন, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সাব্রুমে আইসিপির উদ্বোধন হওয়ায় ব্যাপক খুশি সাব্রুম সহ গোটা দক্ষিণ জেলার মানুষ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য