Wednesday, June 12, 2024
বাড়িরাজ্যআসন সমঝোতা হতে পারে মথা এবং বামফ্রন্টের, ইঙ্গিত দিলেন জিতেন্দ্র চৌধুরীর

আসন সমঝোতা হতে পারে মথা এবং বামফ্রন্টের, ইঙ্গিত দিলেন জিতেন্দ্র চৌধুরীর

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৩১ জানুয়ারি : বামফ্রন্টের সাথে তিপ্রা মথার গোপন আঁতাতের ইঙ্গিত শিকার করলেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিপ্রা মথার সাথে জোট হয়ে একাধিক আসনে আসন সমঝোতা করে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। মঙ্গলবার সাব্রুম বিধানসভা কেন্দ্রের শ্রীনগর বাজারে নির্বাচনী সমাবেশে এ কথা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিলেন তিনি।

 তিনি এদিন সিপিআইএমের নির্বাচনী সভায় বলেন, বিজেপি’কে পরাস্ত করতে তিপ্রা মথার সাথেও আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার সকালে তিপ্রা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীকে ফোন করে বলেছেন আপনার জয় নিশ্চিত। আসন্ন নির্বাচনে সাব্রুম বিধানসভা কেন্দ্রে তিপ্রা মথার সমর্থকেরা সকলে আপনাকে ভোট দেবে। এবং সিপিআইএম মনোনীত প্রার্থী জিতেন্দ্র চৌধুরীর বিরুদ্ধে তিনি প্রার্থী দেবেন না। এর প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণকে পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়েছে শুধু জিতেন্দ্র চৌধুরী জয়ী হলে বিজেপি পরাস্ত হবে না। তাই বামফ্রন্ট চায় আরো অধিক আসনে তিপ্রা মথার সাথে বোঝাপড়া করার জন্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ সময় চেয়েছেন। তিনি বলেছেন দুই পক্ষের মধ্যেই আলোচনা হয়ে আসন ভাগাভাগি করে মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কোন দল কোন আসনে লড়াই করবে। আশা করা হচ্ছে সবকটি গণতান্ত্রিক দল এক মঞ্চে আসবে। কংগ্রেসের সাথে আসন সামঝোতা নিয়ে জোট রয়েছে তাও সমাধান হয়ে যাবে। ২০২৩ -এ নতুন ইতিহাস তৈরি হবে বলে জানান জিতেন্দ্র চৌধুরী।

 ২০১৮ সালের ডাবল ইঞ্জিনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে ডাবল ইনজেকশন দিয়ে দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং অন্য রাজ্যের মন্ত্রীরা ত্রিপুরায় এসে জনগণকে বিশ্বাস করার কথা বলেছিলেন। রাজ্যের মানুষ ভেবেছিল হয়তো ডাবল ইঞ্জিনের সরকারের মাধ্যমে ডাবল উন্নয়ন হবে। আর উন্নয়নের জন্য অর্থের অভাব হবে না। আর তখন যারা বামফ্রন্ট বিরোধী ছিলেন তারা বুঝতে পেরেছিলেন বামফ্রন্টকে তারা পরাজিত করতে পারবে না। তাই তারা চলে যায় বিজেপিতে। এবং যে গরিব মানুষ বামফ্রন্টের প্রচার করতেন তারও বিজেপির সাথে চলে যায়। কিন্তু এই ঠগের শিকার হয় গরিব মানুষ। সুতরাং দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ, আসামের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মানুষকে ঠকিয়ে পাপ করেছে। কিন্তু ত্রিপুরার মানুষ পাপ করেনি। কারণ দিল্লি থেকে ডাবল ইঞ্জেকশন নেওয়া মন্ত্রীরা রাজ্যে এসে মানুষকে বছরে ৫০ হাজার চাকরি, কর্মচারীদের সপ্তম বেতন কমিশন, জায়গা মজুরি ৩৪০ টাকা এবং ২০০ দিনের কাজ, ১০৩২৩ এর স্থায়ী সমাধান করা হবে। এগুলি কিছুই পালন করতে পারেনি। এবং সরকার প্রতিষ্ঠার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন তিন বছর সময় দেওয়ার জন্য ত্রিপুরা মডেল হয়ে যাবে। কিন্তু একটা সময়ের পর দেখা গেল তিনি নিজেই মডেল হয়ে গেছেন। প্রতিশ্রুতি কিছুই পালন হয়নি। মানুষ পাঁচ বছরের শুধুমাত্র বক্তৃতা শুনেছে, আর মনের মধ্যে সুশাসন না হলেও পোস্টারের মধ্যে সুশাসন দেখেছে। রাজ্যের হাজার হাজার মানুষকে সাক্ষী রেখে যে কথাগুলি প্রতিশ্রুতি স্বরূপ দিয়ে সরকারি এসেছে সেগুলি পালন না করে বিজেপি সরকার প্রথম থেকেই প্রতিশ্রুতির বাইরের কাজ করতে শুরু করেছে। যেগুলি তারা সরকারে আসার আগে উচ্চারণ পর্যন্ত করেনি। অর্থাৎ সরকারে এসে সংবিধান, গণতন্ত্র সবকিছু পাঁচ বছরে ভূলুণ্ঠিত করেছে। মানুষ লাঞ্ছিত বঞ্চিত করে উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে গেছে। এক অরাজক পরিস্থিতি কায়েম হয়েছে রাজ্যে বলে সমালোচনা করলেন শ্রী চৌধুরী। আয়োজিত সভায় এদিন এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সিপিআইএম নেতৃত্ব।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য