Monday, December 5, 2022
বাড়িরাজ্যছিনতাই -এর ঘটনার তদন্তে নেমে গ্রেপ্তার ৫

ছিনতাই -এর ঘটনার তদন্তে নেমে গ্রেপ্তার ৫

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১৫ নভেম্বর : স্মার্ট সিটিতে ছিনতাইর ঘটনার তদন্তে পুলিশের নজরে উঠে আসল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জয়নগর এলাকা থেকে ছিনতাই-র ঘটনার তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য পেলো পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ। ঘটনার বিবরণে জানা যায় ২৩ সেপ্টেম্বর জয়নগর এলাকার বাসিন্দা বৃথা দেব পালের গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনতাই করে নিয়ে যায় ছিনতাইকারিরা। এই ঘটনার পর বৃথা দেব পাল পশ্চিম আগরতলা থানায় মামলা দায়ের করে। কিন্তু সিসি ক্যামেরার কোন ফুটেজ না থাকার ফলে এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশকে যথেষ্ট সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়। সদর মহকুমার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জানান এই ছিনতাই -র ঘটনার তদন্ত ক্রমে শেষ পর্যন্ত পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালায়।

এই অভিযানে প্রথমে উত্তর আনন্দনগর এলাকার ১০ নং পাড়ার বাসিন্দা অমৃত রায় ও সাগর নম-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক দারিকাপুর ভগৎ সিং কলোনির বাসিন্দা অমরেশ চক্রবর্তী এবং দক্ষিন রামনগর এলাকার বাসিন্দা পেশায় সরকারি কর্মচারী মিন্টু দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক মঙ্গলবার ভোরে মনপ্পুরম গোল্ড লোণ ফাইনান্স কোম্পানির ম্যানেজার রিমন চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ছিনতাই হওয়া বেশকিছু স্বর্ণালঙ্কার। মঙ্গলবার পশ্চিম আগরতলা থানায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আরো জানান ধৃত অমৃত রায় ও সাগর নমঃ ছিনতাই করতো। তারপর তারা ছিনতাই করা মাল অমরেশ চক্রবর্তী ও সরকারি কর্মচারী মিন্টু দাসের নিকট বিক্রয় করতো। পরবর্তী সময় অমরেশ চক্রবর্তী ও সরকারি কর্মচারী মিন্টু দাস মনপ্পুরম গোল্ড লোণ ফাইনান্স কোম্পানির ম্যানেজার রিমন চক্রবর্তীর সাথে মিলে মনপ্পুরম গোল্ড লোণ ফাইনান্স কোম্পানি থেকে ঋন নিয়ে যেত কোন ধরনের নথিপত্র ছাড়া। এতে ছিনতাইকারি, ছিনতাইর মাল ক্রেতা ও মনপ্পুরম গোল্ড লোণ ফাইনান্স কোম্পানির ফায়দা হত।

ছিনতাই সামগ্রী যে ভাবে মনপ্পুরম গোল্ড লোণ ফাইনান্স কোম্পানির হাত ধরে বৈধতা পায়, নিঃসন্দেহে তা উদ্বেগের বিষয়। কারন ছিনতাইকারিদের হাত থেকে ছিনতাইর মাল মনপ্পুরম গোল্ড লোণ ফাইনান্স কোম্পানির কাছে চলে যাওয়ার ফলে, তা শনাক্তকরন কষ্টকর হয়ে যায়। পরবর্তী সময় মনপ্পুরম গোল্ড লোণ ফাইনান্স কোম্পানি এই সকল ছিনতাইর মাল ঋন পরিশোধ না করলে নিয়ম মেনে নিলাম করে দেয়। ফলে এই সকল ছিনতাই-র মাল বৈধতা পেয়ে যায়। শুধুমাত্র মনপ্পুরম গোল্ড লোণ ফাইনান্স কোম্পানি নয় আরও বেশকিছু ফাইনান্স কোম্পানি সহ ব্যাঙ্ক গোল্ড লোণ দিয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রেও ছিনতাইকারিরা একই কায়দায় ছিনতাইর মাল ঋন গ্রহণের মাধ্যমে বৈধ করে ফেলতে পারে। তাই ছিনতাইকারিরা যেন কোন ভাবেই ব্যাঙ্ক কিংবা ফাইনান্স কোম্পানির মাধ্যমে ছিনতাইর মাল বৈধ করতে না পারে তাঁর জন্য সংশ্লিষ্ট ফাইনান্স কোম্পানি ও ব্যাঙ্ক গুলিকে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। এইদিন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সকলকে এই বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান মনপ্পুরম গোল্ড লোণ ফাইনান্স কোম্পানির কাছে আরও ছিনতাইর মাল রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।

এইদিকে ধৃতদের মঙ্গলবার পুলিশ রিমান্ডের আর্জি জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা এ ঘটনায় আরো বেশ কয়েকজন জালে উঠবে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য