স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ অক্টোবর : রাজ্যে বেকার আন্দোলন
যেন ক্রমশ চোখ রাঙাচ্ছে সরকারকে। নিয়োগ বোর্ডের চরম ব্যর্থতা এবং অপদার্থতার কারণে
আন্দোলনে না নামলে কুম্ভ নিদ্রা ভাঙছে না। এবার যে আন্দোলন শুরু হয়েছে সেটা হল জেআরবিটি
বোর্ডের বিরুদ্ধে। এক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ করতে বোর্ডের সময় লাগছে সাত বছর।
অথচ একটি নির্বাচনী সরকারের সময়সীমা থাকে পাঁচ বছর। সেই জায়গায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার
সময়ে লাগছে সাত বছর। রাজ্যের বেকারদের জন্য বড় দুর্ভাগ্যের বলা চলে।
২০২১ সালে
জেআরবিটি -র বোর্ড রাজ্যের হাজার হাজার বেকারদের পরীক্ষা গ্রহণ করেছিল গ্রুপ সি চাকরির
জন্য। ২০২৩ সালে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করার পর দেখা যায় উত্তীর্ণ হওয়া বহু
বেকার যুবকদের নাম তালিকাভুক্ত হয়নি। ২ হাজার ৪৩০ টি শূন্য পদের মধ্যে ১৯৮০ টি শূন্য
পদ পুরন করে দায়িত্ব খালাস বোর্ডের। তখন রাজ্যের বেকাররা দেখতে পান বহু চাকরি প্রাপ্যরা
অত্যন্ত কম নম্বর পেয়ে চাকরি পেয়ে গেছে। গলা পর্যন্ত দুর্নীতি করে চাকরি দিয়েছে
বোর্ড। যারা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং অধিক নম্বর পেয়েছেন তাদের মধ্যে
অনেকে চাকরি পায়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের বেকাররা যখন হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তখন
তাদের পক্ষে আদালত রায় দেয়।
জে আর বি
টি বোর্ডকে জানিয়ে দেয় যারা পাশ করেছেন তাদের রোল নাম্বার অবিলম্বে প্রকাশ করে বাকি
শূন্যপদগুলি পূরণ করার জন্য। তারপর বাকি থাকায় ৪৩০টি শূন্য পদ পুরন করতে লোক দেখানো
স্কুটিনি করে জেআরবিটি বোর্ড। তারপর অক্টোবরের ২২ তারিখের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া
সম্পূর্ণ করার জন্য দিনক্ষণ ধার্য করে দেওয়া থাকলেও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বোর্ড
কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ। তারপর বেকাররা গত কয়েকদিনে বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চাইতে
গেলে কোনরকম সদোত্তর দিতে পারছে না। মঙ্গলবার চাকুরি প্রত্যাশী বেকাররা চেয়ারম্যান
বিশ্বজিৎ পালের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি জানিয়ে দেন তিনি কিছুদিন আগে দায়িত্ব পেয়েছেন।
তৎকালীন বোর্ড কর্তৃপক্ষ কিভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া করছে সে বিষয়ে অবগত হয়ে বিস্তারিত
জানাতে পারবেন। তারপরেই বেকাররা রাস্তায় বসে আন্দোলন শুরু করে। তারা দাবি করেন অবিলম্বে
মেরিট লিস্ট প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পশ্চিম
থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খায় এদিন। তবে রাজ্যের সুশাসন জামানা
একের পর এক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে যেভাবে হিমশিম খাচ্ছে এবং বেকার আন্দোলনের
মুখে পড়ছে সেটা রীতিমতো ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু নয়। একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে
সম্পূর্ণ করতে যদি পাঁচ থেকে সাত বছর লেগে যায় তাহলে বেকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা ছাড়া
আর কিছু নয়।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান