স্যন্দন ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
৭ অক্টোবর : মঙ্গলবার রাস্তা
অবরোধ করে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরও এখনও পর্যন্ত কোনও
দুষ্কৃতিকে গ্রেপ্তার না করায় ফের আন্দোলনে নামলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। বুধবার
সকাল থেকে শান্তিরবাজার মহকুমার বীরচন্দ্র মনু–মনপাথর বাজার এলাকায় অনির্দিষ্টকালের
জন্য সড়ক অবরোধ শুরু করেন তারা। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, নির্বাচনী সন্ত্রাসের ঘটনায়
জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। তারা প্রশ্ন তুলেন এ কেমন জোট শরিক?
এনডিএ জোটের দুই মন্ত্রীকে জোট থেকে বের করে দেওয়ারও
দাবি জানান অবরোধকারীরা। এদিন আন্দোলনকারীরা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বাপি দেববর্মার
ভূমিকা ও পুলিশের ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার অবরোধ চলাকালীন
দ্রুত দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনও পদক্ষেপ
দেখা যায়নি। দিল্লির সঙ্গে কথা বলে তিপরা মথার দুজন মন্ত্রীকে লাথি মেরে মন্ত্রিসভা
থেকে বের করে দেওয়ার জন্য দাবি করল ভারতীয় জনতা পার্টি কর্মী সমর্থকরা। তারা জানান
এই দুই মন্ত্রী মন্ত্রিসভা থেকে বের হলেই ত্রিপুরা রাজ্যের মানুষ শান্তি পাবে। তারা
আরো বলেন, শাসক দলের হয়ে প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনা বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। এটা কিসের জোট?
উপজাতিকে উপজাতির বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিয়েছে।
দেওয়ালে পিঠ
ঠেকে গেছে। দুই মন্ত্রীকে না সরানো হলে এডিসি-র কাজের গতি আসবে না। তারা আরো বলেন,
সদ্য ভোটে এমন কিছু তথ্য তাদের কাছে রয়েছে যেগুলি প্রকাশ করলে রিটার্নিং অফিসারের
চাকরি থাকবে না। এদিন অনির্দিষ্টকালের এই পথ অবরোধের জেরে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার
পাশাপাশি এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী
এবং বিজেপি-র প্রদেশ সভাপতি বিষয়টিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে দোষীদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা
করার জন্য। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন
আন্দোলনকারীরা। দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলার পর অবশেষে বিধায়ক এবং মণ্ডল কমিটির নেতৃত্বের
পক্ষ থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বলা হলে কর্মীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।তবে অবরোধ
তুলে নেওয়ার সময় কর্মীদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের চিত্র দেখা যায়। পরে আন্দোলনকারীদের
একাংশের অভিযোগ, তারা দলের হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করলেও এই ঘটনার পর বিজেপি দলের কাছ থেকে
ন্যায় বিচার পাননি। কর্মীদের কথায়, এখন থেকে তারা আর বিজেপি করবেন না।
কারণ তারা দল ও দলীয় পতাকাকে ভালোবাসেন। তাই দলীয়
রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেও দলীয় পতাকার প্রতি সম্মান জানিয়ে পতাকাগুলি দলীয় কার্যালয়ে
দিয়ে আসবেন বলে জানান। ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে বিজেপি পরিচালনাধীন এনডিএ জোটের বিপুল
জয় হয়েছে। তারপরেও ভিলেজ কমিটি ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর অমরপুর বিধানসভার অন্তর্গত
উত্তর একছড়ি ভিলেজের বিজেপি বুদ্ধ মন্দির শক্তি কেন্দ্র কার্যালয় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের
মত ঘটনা সংগঠিত হয়। উত্তর একছড়ি ভিলেজের নয়টি আসনের মধ্যে সাতটিতে জয়ী হয়ে তিপ্রা
মথা, বাদবাকি দুটি আসন বিজেপি সমর্থিত নির্দলের দখলে যায়। স্বাভাবিক ভাবেই ভোটের ফলাফল
বলে দিচ্ছে যে উত্তর একছড়ি ভিলেজে বিরোধীদের কোন অস্তিত্ব নেই। তাহলে বিজেপির পার্টি
অফিস ভাঙলো কে? বিজেপির বুথ সভাপতি তরনী চাকমা সংবাদ মাধ্যমে মুখোমুখী হয়ে বিজেপি
অফিস ভাংচুর চালায়। নির্দল প্রার্থীকে মথায় যোগদান করাতে গিয়ে জনরোষের শিকার মথার
বিধায়িকা নন্দিতা রিয়াং। স্লোগান উঠলো গো ব্যাক স্লোগান। ঘটনার বিবরণে জানা যায়
এদিন বিধায়িকা নিজ এলাকায় যোগদান করাতে গিয়েছিলেন। তখন স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে
পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে একবারই ঘরের ভেতর ঢুকে নিজেকে
রক্ষা করলেন বিধায়িকা।উল্লেখ্য, প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ সরাসরি রাজনীতি থেকে সরে
যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরই রাজ্যের পাহাড়ের মধ্যে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। কি কারনে
আচমকাই প্রদ্যোত এমন সিদ্ধান্ত? পেছনে কি অন্য কোন রহস্য রয়েছে কিনা? যাইহোক সদ্য
নির্বাচনে জোট উভয় দলের নেতৃত্ব মেনে নিল নিচু মহলের নেতৃত্ব মেনে নিতে পারেননি। কারণ
পাহাড়ে জোট ধর্ম সঠিকভাবে পালন হবে না সেটা ভালো করেই জানতেন উভয় দলের নিচু মহলের
কর্মী সমর্থকরা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান