স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
৪
অক্টোবর :সম্প্রতি জিবি হাসপাতালে এক তরুণ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এক পুরুষ রোগীর করা বিকৃত যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারী নিজেই মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতালের একাংশ চিকিৎসক প্রতিবাদে সামিল হন এবং অভিযোগটি মিথ্যা বলে দাবি করার পাশাপাশি ঘটনার জন্য সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের অভ্যন্তরে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করার দাবিও ওঠে। এবার এই ঘটনা জোরে শনিবার রাত থেকে আগরতলা জিবি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনে দেখা যায় মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ সংক্রান্ত পোস্টার। পোস্টারে হাসপাতালের ভিতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নিষেধ এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টারের নিচে ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশ’ লেখা থাকলেও সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো স্বাক্ষর বা নির্দেশ জারির তারিখ উল্লেখ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে রবিবার হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের একাংশ দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রোগী ও তাদের পরিজনদের মোবাইল ফোন নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশে বাধা দেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে রোগী ও পরিজনদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
রোগী
ও পরিজনদের বক্তব্য, বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দূরবর্তী এলাকা থেকে হাসপাতালে আসা রোগীরা মোবাইলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য, রিপোর্ট বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ও মোবাইলের মাধ্যমে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ফলে হাসপাতালের ভিতরে সম্পূর্ণভাবে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অন্যদিকে, হাসপাতালের ভিতরে অনৈতিক বা অনিয়মের কোনো ঘটনা ঘটলে মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি ও ভিডিও অনেক সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও মত রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন হাসপাতাল সংক্রান্ত অভিযোগের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের ঘটনাও ঘটেছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভিতরে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে রোগী ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। একইভাবে হাসপাতালে বিভিন্ন সময় চিকিৎসক এবং অস্বাস্থ্যকর্মীদের দ্বারা সংঘটিত বিভিন্ন দুর্ব্যবহার এবং অনৈতিক কাজকর্ম চাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষত ডিজিটাল ভারতে একটি রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতালে মোবাইল নিষিদ্ধ করার নির্দেশ নজিরবিহীন এবং একপ্রকার বেআইনি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। তবে পোস্টারে নির্দিষ্ট করে স্বাক্ষর না থাকায় প্রশ্ন উঠছে—হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার এই নির্দেশ আদৌ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত কি না। যদি এটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে তার লিখিত নির্দেশ, আইনি ভিত্তি এবং রোগী-পরিজনদের জন্য বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়টিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। রাতে খবর রাখা পর্যন্ত এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান