স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৪ জুলাই : পশ্চিম মুহুরীপুর এলাকায় একই বাড়ি থেকে উদ্ধার তিন জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতরা হল শঙ্কর চক্রবর্তী (৫২), ছবি চক্রবর্তী (৪০) এবং কৃষ্ণ চক্রবর্তী (৩০)। ঘটনার বিবরনে জানা যায়, শান্তির বাজার মহকুমার অধীনে পশ্চিম মুহুরীপুর এলাকার বাসিন্দা শঙ্কর চক্রবর্তীর বাসভবন থেকে শঙ্কর চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী ছবি চক্রবর্তীর মৃতদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে একই ঘরে শঙ্কর চক্রবর্তীর ছেলে কৃষ্ণ চক্রবর্তীর মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় বাইখোড়া থানার পুলিশ, বিলোনিয়া থানার পুলিশ সহ দক্ষিন জেলার অতিরুক্ত পুলিশ সুপার।
সংবাদ মাধ্যমের দম্পতির ছোট ছেলে মিঠুন চক্রবর্তী জানান, তাদের ভাই কৃষ্ণ চক্রবর্তী একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করেন। সে অন্যান্য দিনের ন্যায় কাজে গিয়েছিলেন। কিন্তু শুক্রবার তাড়াতাড়ি কাজ থেকে ফিরে আসে। বাড়ি ফিরে এসে ছোট ভাই মিঠুন চক্রবর্তীকে বলে স্নান করার জন্য এবং ঘরের সকলে ঘুরতে বের হবে। তারপর তার কাকার বাড়িতে চাবি আনতে যায় মিঠুন। মিঠুন চাবি নিয়ে এসে বাড়ি এসে দেখতে পায় ঘরের দরজা জানালা লাগানো। মিঠুন চক্রবর্তী সকলকে অনেক ডাকাডাকি করে না পেয়ে বাড়ীর পেছন দিক দিয়ে জানালাদিয়ে দেখতেপায় তার ভাই কৃষ্ণ চক্রবর্তী ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। ভাইকে বাচাতে গিয়ে দেখতেপায় তার মায়ের গলা কাটা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তার বাবাও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ঘরের মেঝেতে।
তার ভাই কৃষ্ণ চক্রবর্তী একটি মেয়েকে ভালোবাসতো এবং তাদের কোর্ট ম্যারেজ হয়েছে। এই নিয়ে ছেলের বাড়ীর লোকজনেরা সবকিছু মেনে নিয়েছে কিন্তু মেয়ের বাড়ী থেকে এই বিয়ে মেনে নিতে পারছিল না বলে মেয়ের বাড়ীর লোকজনদের দ্বারা খুন হয়েছে। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে পরিবারের ছোট ছেলে বক্তব্য এলাকাবাসীর কাছে অনেকটাই গল্পের মত মনে হয়েছে। কারণ তার বড় ভাইয়ের হাত বাঁধা ছিল। ঘটনার খবর পেয়ে ফরেন্সিক টিম ছুটে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তিনটি মৃতদেহ বর্তমানে মর্গে আছে। ঘরের ছোট ছেলে চাবি আনতে যাওয়ার পর এত কম সময়ে তিনজন কিভাবে খুন হলো? পেছনে বড় রহস্য রয়েছে কিনা সেটা পুলিশের তদন্তে বের হয়ে আসবে। খবর লেখা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ কাউকে আটক করেনি।

