আগরতলা, ২৭
আগস্ট (হি.স.) : ত্রিপুরায় ক্রমশই বাড়ছে পর্যটকদের আনাগোনা। দেশীয় পর্যটকদের পাশাপাশি
বিদেশি পর্যটকদের আগমনও অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে
রাজ্যে পর্যটক আগমনের সামগ্রিক বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩.১৫ শতাংশ। বৃহস্পতিবার বিধানসভার
প্রশ্নোত্তর পর্বে বিজেপি বিধায়িকা অন্তরা দেব সরকারের উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের
লিখিত উত্তরে এই তথ্য জানান রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
পর্যটনমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ত্রিপুরায় দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা
ছিল ৪ লক্ষ ৬৯ হাজার ৩২৮ জন। একই বছরে বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন ৭৫ হাজার ৯৭১ জন। অর্থাৎ
ওই অর্থবর্ষে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে মোট পর্যটক আগমনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লক্ষ ৪৫ হাজার।
পরবর্তী অর্থবর্ষে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে
রাজ্যে দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ লক্ষ ২৭ হাজার ৭০৫ জন। ওই বছর বিদেশি পর্যটকের
সংখ্যা ছিল ৭৯ হাজার ৪৬৮ জন। ফলে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে মোট পর্যটক আগমনের সংখ্যা দাঁড়ায়
প্রায় ৭ লক্ষ ৭ হাজার।
তবে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পর্যটন পরিসংখ্যানে একটি ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে। ওই বছরে দেশীয়
পর্যটকের সংখ্যা আরও বেড়ে ৭ লক্ষ ১০ হাজার ২৪৩ জনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে
দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৮২ হাজারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে বিদেশি পর্যটকের
সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ১৭১ জনে।
পরিসংখ্যান বলছে, দেশীয় পর্যটকের আগমন ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হলেও বিদেশি পর্যটকের ক্ষেত্রে
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বড় ধরনের পতন হয়েছে। তবুও সামগ্রিক পর্যটক আগমনের হিসাব বিবেচনায়
২০২৪-২৫-এর তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বৃদ্ধির হার ৩.১৫ শতাংশ বলে বিধানসভায় জানান পর্যটনমন্ত্রী।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, রাজ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপত্য, ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র
এবং পাহাড়-জঙ্গলঘেরা পর্যটনস্থলগুলিকে ঘিরে দেশীয় পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার
উন্নয়ন এবং বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পরিকাঠামোগত উন্নয়নও পর্যটক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন বিধানসভায় পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়ন ও মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিপ্রা মথার বিধায়ক
রঞ্জিত দেববর্মার উত্থাপিত এক প্রশ্নের উত্তরে পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জানান,
রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়ন ও নির্মাণে একাধিক উৎস থেকে অর্থ বরাদ্দ করা
হচ্ছে। কিছু প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তা রয়েছে, আবার কিছু প্রকল্প এশিয়ান
ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এবং ডোনার মন্ত্রকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগে যে সমস্ত পর্যটনকেন্দ্র তৈরি করেছে
বা বর্তমানে তৈরি করছে, সেগুলি ত্রিপুরা ট্রাইব্যাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের
(টিটিএএডিসি) হাতে হস্তান্তরের প্রশ্নই ওঠে না। ফলে পর্যটনকেন্দ্রগুলির নিয়ন্ত্রণ ও
পরিচালনা নিয়ে যে জল্পনা রয়েছে, সরকারের অবস্থান এদিনের জবাবে তা স্পষ্ট হয়েছে।
বিধানসভায় পর্যটন সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশের পর একদিকে রাজ্যে দেশীয় পর্যটকের ক্রমবর্ধমান
উপস্থিতির ছবি স্পষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টিও
নতুন করে নজরে এসেছে। ফলে ভবিষ্যতে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণে রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামো,
প্রচার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্র্যান্ডিংয়ের দিকে সরকার কতটা গুরুত্ব দেয়, এখন সেদিকেই
নজর থাকবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান