Monday, August 24, 2026
বাড়ি রাজ্য মুক্তা থেকে মুক্তি চায় ই-রিকশা চালকরা, থানায় বিক্ষোভ দেখিয়ে ডেপুটেশন প্রদান করল শ্রমিক সংগঠন

মুক্তা থেকে মুক্তি চায় ই-রিকশা চালকরা, থানায় বিক্ষোভ দেখিয়ে ডেপুটেশন প্রদান করল শ্রমিক সংগঠন

মুক্তা থেকে মুক্তি চায় ই-রিকশা চালকরা, থানায় বিক্ষোভ দেখিয়ে ডেপুটেশন প্রদান করল শ্রমিক সংগঠন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৪ আগস্ট :ঘুষ খেয়ে পকেট ভারি না করলে একটা বড় অংশের ট্রাফিক পুলিশের সংসার চলে না। সরকারি বেতনে তাদের পেট ভরে না। তাই ঘুষের টাকায় তাদের খাই মেটাতে হয়। এমনটাই গুঞ্জন প্রত্যেক ই-রিকশা চালকের মুখে মুখে।

 তারা শহরে বের হলেই ট্রাফিক পুলিশদের আগে দক্ষিণা দিতে হবে। আর দক্ষিণা না দিলে সারাদিন গাড়িও চালাতে পারেন না। এর মধ্যে অন্যতম হলেন ট্রফিক ইন্সপেক্টর মুক্তা দাস। বাম জামানা থেকেই শহরের অটো ও টমটম চালকদের কাছে অন্যতম তিতিবিরক্তির কারণ তিনি। তার বিরুদ্ধে আবারও উঠলো অভিযোগ। শুধু অভিযোগ নয়, যারা বুক ঠুকে দাবি করেন রাজ্যে সুশাসন চলছে তাদের কাছে এবার বিষ চাইলেন টমটম চালকরা। এটাই সুশাসনের নমুনা। এই লজ্জাজনক বক্তব্য উঠলো রাজধানীর পূর্ব আগরতলা থানা চত্বর থেকে। সোমবার টমটম চালকরা থানায় গিয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মুক্তা দাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায়। তারপর ত্রিপুরা ইলেকট্রিক রিকশা শ্রমিক সংঘের পক্ষ থেকে ডেপুটেশন প্রদান করে বলেন, তারা শহরের মধ্যে গাড়ি চালাতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখে পড়ছে। বিশেষ করে মোটর স্ট্যান্ড এলাকায় আসলেই কোন না কোন একটি ইস্যু বানিয়ে তাদের কাছ থেকে ১০০০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করে ঘুষ আদায় করছেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মুক্তা দাস। একদিকে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে টমটম চালকরা, তার ওপর দিয়ে রয়েছে কিস্তির টাকা।

 কিন্তু এর উপর কাল হয়ে দাঁড়ালেন মুক্তা দাস। একটি টমটম গাড়ির উপর ভিত্তি করে বহু চালক বিয়ে করেন এবং ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার করেন। প্রতিদিন জিনিসের মূল্য লাফিয়ে বাড়ছে। নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তার উপর দিয়ে প্রতিদিন মুক্তা দাসের জ্বালা যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে তারা। তাদের প্রশ্ন হলো, ট্রাফিক পুলিশের বেতন হয় শ্রমিকদের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে। তাহলে আবার কেন এত হারে তাদের জরিমানা করা হয়? এক চালক জানান, গত এক সপ্তাহে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা তাকে জরিমানা করেছে মুক্তা দাস। আরো এক চালক জানান গত কয়েকদিন আগে উনার গাড়ির ২২০০ টাকা জরিমানা করেন মুক্তা দাস। টাকা দিতে না পারায় গাড়ি রেখে দেন। শেষ পর্যন্ত দেড় হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে হয়েছে। সোমবার ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে, তাদের শ্রমিক সংগঠনের মিছিল থেকে ফেরার সময় মোটা জরিমানা করেছেন মুক্তা দাস। তারপরেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে চালকদের। তবে প্রশ্ন হল এভাবে কিছুদিন পরপরই মুক্তা দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কেন কোন রকম তদন্ত নেই? সূত্রের খবর, রাজ্য পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে কিছু পুলিশ আধিকারিকের কারণে সব আমলই আগরতলায় রাজত্ব করার সুযোগ পান মুক্তা।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha