আগরতলা, ২১ জুলাই (হি.স.) : ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ত্রিপুরা প্রদেশ সংগঠনে বড় ধরনের সাংগঠনিক রদবদল করা হয়েছে। মঙ্গলবার দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদনক্রমে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের সম্মতিতে নতুন রাজ্য কমিটি ও বিভিন্ন মোর্চার সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হয়। অভিষেক দেবরায় রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই দলের প্রথম বড় সাংগঠনিক পুনর্গঠন বলে রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন কমিটি ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, দলের রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায়, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতারা নবনিযুক্ত পদাধিকারী ও মোর্চা সভাপতিদের অভিনন্দন জানান। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে দল সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে এবং রাজ্যের প্রতিটি স্তরে বিজেপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।


নতুন সাংগঠনিক রদবদলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে, এতদিন দলের সোশ্যাল মিডিয়া ইন-চার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অরিন্দম দেবকে বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে। তিনি বিধায়ক সুশান্ত দেবের স্থলাভিষিক্ত হলেন। একই সঙ্গে দলের আইটি সেলের ইন-চার্জ চন্দন দেবনাথকে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, রাজ্য মহিলা মোর্চার বিদায়ী সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক মিমি মজুমদারকে রাজ্য সম্পাদক পদে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে মহিলা মোর্চার নতুন সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মৌসুমী দাস।
ঘোষিত নতুন রাজ্য কমিটিতে ছয়জন সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাপস ভট্টাচার্য, অমিত রক্ষিত, রতন ঘোষ, অজন্তা ভট্টাচার্য, তাপস মজুমদার এবং উত্তরা দেববর্মা। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ভগবান দাস, বিপিন দেববর্মা এবং চন্দন দেবনাথ।
রাজ্য সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছেন ভূমিকানন্দ রিয়াং, নবাদল বনিক,, কমল দে, মলিনা দেবনাথ, রথীন্দ্র জামাতিয়া। এছাড়া নাগধিরাজ দত্তকে রাজ্য কোষাধ্যক্ষ, এমকে. নাথকে যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ এবং মিহির সরকারকে দফতর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন মোর্চার নতুন সভাপতিদেরও এদিন ঘোষণা করা হয়। যুব মোর্চার সভাপতি হয়েছেন অরিন্দম দেব, মহিলা মোর্চার সভানেত্রী মৌসুমী দাস, তফসিলি জনজাতি (এসটি) মোর্চার সভাপতি অভিজিৎ দেববর্মা, তফসিলি জাতি (এসসি) মোর্চার সভাপতি বাপি দাস, ওবিসি মোর্চার সভাপতি সুকান্ত ঘোষ, কিষাণ মোর্চার সভাপতি প্রদীপ বরণ রায় এবং সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি বিল্লাল মিয়া।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি এখন থেকেই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করতে এই সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস করেছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে বুথ স্তর থেকে রাজ্য স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি আনাই দলের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

