স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৭ আগস্ট : রাজ্যের
বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার মুখে গাছের যত্ন নেওয়া, গাছ ধ্বংস না করা ও বৃক্ষ রোপনের
গল্প যেন বাস্তবে শোভা পায় না। প্রতিদিন উজার হয়ে যাচ্ছে বনাঞ্চল। কিন্তু মন্ত্রীর
কোন বক্তব্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না। মনে হয় যেন সবটাই গল্প। ফলে বন ধ্বংসের সরাসরি প্রভাব
এবার পড়ছে জঙ্গলের বন্য হাতির উপরও। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি খাবার ও নিরাপদ
আশ্রয়ের সংকট তৈরি হওয়ায় হাতির দল ক্রমশ জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়মুখী হচ্ছে। কখনো, কখনো
গ্রামের বাড়ির উঠোন কিংবা বসত বাড়ি ঘরে ঢুকে পড়ছে বন্য হাতি।
ফলে একদিকে যেমন হাতির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে,
অন্যদিকে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বন লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা। হাতির হানার আশঙ্কায়
সন্ধ্যার পর অনেকেই বাড়ির বাইরে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন। ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন রাতের
যানবাহনের চালকরাও। স্থানীয়দের প্রশ্ন, জঙ্গল যদি নির্বিচারে কাটা হয়, তাহলে বন্যপ্রাণীরা
যাবে কোথায়? বন থাকবে না, খাবার থাকবে না, আশ্রয় থাকবে না—তারপর হাতি লোকালয়ে ঢুকলে শুধু হাতিকেই
দোষ দিয়ে কি সমস্যার সমাধান সম্ভব? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে।
দিনের পর দিন যদি বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান গাছ কেটে পাচার চলতেই থাকে, তাহলে নজরদারি
ব্যবস্থা কোথায়? কার চোখের সামনে দিয়ে এই কাঠ পাচার হচ্ছে? নাকি বনরক্ষার দায়িত্বে
থাকা দপ্তরের নজর এড়িয়েই সবকিছু চলছে? বন উজাড় হলে শুধু গাছ হারায় না—হারিয়ে যায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল,
বাড়ে মানুষ-পশুর সংঘাত, আর বিপন্ন হয় দু'পক্ষের জীবনই। তাই তেলিয়ামুড়ার বনাঞ্চল
রক্ষায় অবিলম্বে কঠোর নজরদারি, অবৈধ কাঠ পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান এবং হাতি চলাচল প্রবণ
এলাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান